সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার সঙ্গে বাস্তবের মিল জরুরি

নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত। একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ব্যাংকগুলোর অবস্থা এখন নড়বড়ে। বিশেষত ঋণখেলাপি বেশি ভোগাচ্ছে। এছাড়া অনিয়ম-দুর্নীতি, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ এবং কিছু অদক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণেও মানুষের আস্থাহীনতা বাড়াচ্ছে। এরই মধ্যে বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংকে এমডি নিয়োগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা না মানার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতার স্বার্থে যা প্রত্যাশিত নয়। ব্যাংক খাতে মানুষের আস্থা ফেরাতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকা জরুরি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘এমডি হওয়ার যোগ্য নন আলী রেজা ইফতেখার!’ শিরোনামে প্রধান প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইস্টার্ন ব্যাংকের বর্তমান এমডি আলী রেজা ইফতেখার স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী নন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতক। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ন্যূনতম স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী না থাকলে কোনো ব্যক্তি তফসিলি ব্যাংকের এমডি হতে পারবেন না। তারপরও তাকে আরও তিন বছরের জন্য এমডি হিসেবে পুনঃনিয়োগের বিষয়ে অনাপত্তি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেদের তৈরি করা নির্দেশনা নিজেরাই ভঙ্গ করেছে বলে আমরা মনে করি।
দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা রক্ষায় নানা ধরনের নিয়ম-নীতি ও নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এসব নির্দেশনা মান্য করা ব্যাংকগুলোর জন্য অবশ্য পালনীয়। সে হিসেবে এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাও ব্যাংকগুলোকে মানা জরুরি। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজেদের নির্দেশনা নিজেরাই অমান্য করা হতাশাজনক। একটি ব্যাংককে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হলে বাকিরাও সে ধরনের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মানতেও অনীহা দেখাতে পারে অনেকে। ফলে ব্যাংকগুলোয় বিচ্ছৃঙ্খলা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা।
অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক খাতে জড়িত থাকা আলী রেজা ইফতেখারকে একজন স্বনামধন্য ব্যাংকার হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। তার কর্মদক্ষতা নিয়ে অনেকে প্রশংসা করছেন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে, বাংলাদেশ ব্যাংক কেন এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে। এছাড়া গভর্নরের সঙ্গে দেন-দরবারেরও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার ব্যাপারটিও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এখানে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা লঙ্ঘন বৈকি।
ব্যাংক খাতের আস্থা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও সতর্ক হওয়া জরুরি। এছাড়া যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয় তাতে কোনো ত্রুটি থাকলে তাও সমাধান করতে হবে। ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..