সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ-ব্রুনেই বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব জোরদার হোক

বাংলাদেশ ও ব্রুনেইয়ের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৩৫ বছর চলছে। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বৈশ্বিক নানা চুক্তি সম্পন্ন হলো। বিশেষ করে পেট্রোকেমিক্যাল, সামুদ্রিক তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং কারিগরি সহযোগিতা ও সক্ষমতা উন্নয়নে দু’দেশের সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত সহযোগিতায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ জোরদার হবে। এই জিটুজি চুক্তি দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে তুলতে জ্বালানি চাহিদা মিটমাট করবে এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, জ্বালানি, আইসিটি, জাহাজনির্মাণ, ম্যানুফ্যাকচারিং, পর্যটন অবকাঠামো, ব্লু-ইকোনমি ও পাটশিল্পে পারস্পরিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করবে। কৃষিতে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতা বাড়বে। এদিকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের সুযোগে ব্রুনাই দারুসসালাম বিশ্বব্যাপী ‘হালাল ফুড মার্কেটে’ প্রবেশের আগ্রহ দেখিয়েছে। উভয়পক্ষ প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। সর্বোপরি দ্বিপক্ষীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় আর্থিক কার্যক্রম জোরদার হবে।
দ্বিপক্ষীয় স্বার্থকে ছাপিয়ে বৈশ্বিক বিষয়-আশয় নিয়েও তারা মানবিক মূল্য জোরদার করে। ক্রমেই ক্ষয়িষ্ণু বৈশ্বিক মূল্যবোধ ও নিরাপত্তায় সুরক্ষা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। এ চুক্তিতে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, পরিবেশগত সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জাতিসংঘ, ওআইসি, কমনওয়েলথ, আশিয়ান আঞ্চলিক ফোরামসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহযোগিতা আরও জোরদারে উভয়পক্ষের সম্মতি প্রশংসনীয়। আশিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে দু’নেতার অব্যাহত চেষ্টায় পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষিত হবে বলে আমরা মনে করছি। বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রিত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক সহযোগিতা প্রদান ও তাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের প্রতি ব্রুনাইয়ের সমর্থন জনমনে আশা ও মর্যাদা সঞ্চার করবে বলে আমরা মনে করি।
দু’দেশের এই সম্পর্ককে সহজতর করার জন্য অবিলম্বে বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষর করাসহ যোগাযোগের সব মাধ্যমে সাবলীলতা আসবে বলে প্রতীয়মান হয়েছে এই চুক্তিতে। তাছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে সক্ষমতা অর্জন, জ্ঞানবিনিময়, শান্তি স্থাপন ও মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে সহযোগিতার সম্পর্ক সৃষ্টি হবে।
তবে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের মধ্যেই উচ্চকিত হতে পারে না। উভয় রাষ্ট্রের শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি ও গবেষণা খাতেও এর গুরুত্ব রয়েছে। এই চুক্তিতে সফর, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ছাত্র ও কর্মীদের আসা-যাওয়া, তথ্যবিনিময় এবং গবেষণা ও উন্নয়নের উদ্দিষ্ট মাত্রা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাতে জনগণের সঙ্গে জনগণের ভাববিনিময়ে গভীরতা বাড়বে। যুব, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও শিল্পের পারস্পরিক সহযোগিতা দেশ দুটির মধ্যে সাংস্কৃতিক ঐকতান সৃষ্টি করবে। এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

সর্বশেষ..



/* ]]> */