বাংলা ভাষার চর্চায় অবহেলা নয়

আওয়ামী লীগের সভায় প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার বিজ ডেস্ক : দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা শিক্ষা হবে না, বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে কোনো শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে না এটা হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকটি বিয়ের কার্ড হয় ইংরেজি ভাষায়। আমি ঠিক জানি না কেন হয়। বিয়ের দাওয়াতের কার্ড ইংরেজিতে লিখতে হবে কেন? এর সঙ্গে কোনো মর্যাদার বিষয় আছে কি না, সেটাও আমি বুঝি না। এটা ব্যাপকভাবে একটা ব্যাধির মতো ছড়িয়ে গেছে। আমরা বাংলা ভাষায় কোনো দাওয়াতের কার্ড লিখতে পারি না কেন? এই দৈন্য কেন দেখাতে হবে? এটা আমিও বুঝি না।

ভাষাশহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার ঢাকায় আওয়ামী লীগের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর আগে অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল মতিন খসরু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সূত্র: বিডিনিউজ

এ সময় নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কোনো ভাষাই সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করছি না। বাংলা হচ্ছে না, ইংরেজি হচ্ছে না, আরবি হচ্ছে না। অভিভাবকদের সচেতনতা নেই। তিনি বাংলা ভাষা চর্চার ঘাটতি বা গলদ খুঁজে বের করতে ‘ভাষা কমিশন’ গঠনের দাবিও জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এখন ইংরেজি সুরে ভাষাটাকে বিকৃত করে বলা; ওটাও যেন কেমন একটা চর্চা শুরু হয়ে গেছে। অন্য ভাষা শেখার বিপক্ষে কিন্তু আমরা না। বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রাখতে গেলে আমাকে অন্য ভাষা শিখতেই হবে। তবে অন্য ভাষা না শিখলে আমরা উন্নত হতে পারব না; এটা আমি বিশ্বাস করি না। জাপানিদের নিজ ভাষা চর্চার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নিজেদের ভাষায় কথা বলেই তারা নিজেদেরকে বিশ্বে সব থেকে উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছিল। এখনও তারা জাপানি ভাষাই ব্যবহার করে।

সাইনবোর্ডে বাংলা লেখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইনবোর্ডগুলোও ইংরেজিতে লেখা হয়। অন্য ভাষা দিতে চাইলে দিক। কিন্তু মাতৃভাষাটা তো বড় করে লিখবে। অন্য ভাষাটা ছোট করে লিখবে। আশা করি, ভবিষ্যতে উচ্চ আদালতেও বাংলায় রায় লেখা শুরু হবে। বাংলায় লিখুক। পরে, ইংরেজিতে অনুবাদ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা অধ্যয়নের স্মৃতিচারণ করেন। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ’৭৫-এর পর দেশে ফিরতে পারি নাই। ছয়টা বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল। ছেলেমেয়েগুলো বিদেশেই লেখাপড়া শিখতে বাধ্য হয়েছে। যেখানে বাংলা শেখার এতটুকু সুযোগ ছিল না। ভারতের শিক্ষাগ্রহণের সময় সন্তানদের বাংলা শেখানোর চেষ্টা চালিয়েছি। আমি ও রেহানা… আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি ওই সীমিত অবস্থায়…। প্রতি সপ্তাহে বাংলায় চিঠি লিখতাম। ছুটিতে আসলে বাংলা শেখাতে চেষ্টা করতাম।

শেখ হাসিনা বলেন, তারা বিদেশে লেখাপড়া করেও যতটুকু শুদ্ধ করে বাংলাটা বলতে পারে… আমরা তো দেখি, বাংলাদেশে থেকে একটু ভালো ইউনিভার্সিটিতে পড়ে, তারাও যেন বাংলা বলতেই চায় না, বলতেই পারে না বলতে গেলেও একটু বিকৃত করে বলে। সেখানেই দুঃখ লাগে।