বাজারসংশ্লিষ্ট আইনগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছি। সেটিকে টেকসই করার জন্য পুঁজিবাজারকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে। তা না হলে দেশের অর্থনীতি টেকসই হবে না। দেশে যারা স্থানীয়ভাবে ব্যবসা করছে বা যেসব বহুজাতিক কোম্পানি এদেশে ভালো ব্যবসা করছে, তাদের পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। ভালো কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী নয়। গত পাঁচ বছরে দেশের পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণ আইন হয়েছে। আর এই আইনগুলো যদি সঠিকভাবে কার্যকর বা বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে পুঁজিবাজারকে একটি ভালো মাত্রায় নেওয়া সম্ভব। কিন্তু নীতিনির্ধারকদের এসব আইন বাস্তবায়নে ব্যাপক অনীহা রয়েছে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়গুলো আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হোসেন, এফসিএ।
মাহমুদ হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারের গতিবিধি যা হওয়ার কথা ছিল তা হচ্ছে না। উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। এত বছর পর আমরা পুঁজিবাজারে কৌশলগত অংশীদার আনতে পারলাম। পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারক মহল থেকেও বাজার নিয়ে সব ইতিবাচক মন্তব্য, তার পরও দেশের পুঁজিবাজার নেতিবাচক দিকে ধাবিত হচ্ছে। কেন এমনটা হচ্ছে সেটাই আসলে চিন্তার বিষয়। তাছাড়া আমাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আচরণ লক্ষ করার মতো। দেখা যায়, কোনো একটি শেয়ারের দর দু-চার দিন বাড়লেই তারা বিভিন্ন তদন্ত শুরু করে দেয়, অথচ দর কমার সময় কোনো খবর থাকে না। এ ক্ষেত্রে তারা কি ধরেই নিচ্ছেন যে দেশের বাজার এখন অতিমূল্যায়িত অবস্থায় আছে? নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এ ক্ষেত্রে দর বাড়লেই শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হয়ে শেয়ার সংগ্রহ করবে, তা নয়। যৌক্তিক দরের নিচে শেয়ারদর নেমে গেলেও মাঝারি বা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ প্রচণ্ডভাবে ক্ষুন্ন হয়। আর এটি দেখার দায়িত্ব কি তাদের নয়? এছাড়া সবাই বলেন, দীর্ঘ সময়ের প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। অথচ এটি আসলে হওয়ার কথা পুঁজিবাজারের মাধ্যমে। আর ক্ষুদ্র বা স্বল্পমেয়াদি ঋণগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হচ্ছে না। ওপর মহল থেকে যদি নীতিমালা করে দেওয়া হয় যে, ব্যাংক কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থায়ন করতে পারবে না, আর তখন ওইসব কোম্পানির যদি দীর্ঘমেয়াদি ঋণের দরকার হয় তাহলে তারা বাধ্য হয়েই পুঁজিবাজারকে ব্যবহার করবে। দেশের পুঁজিবাজার অর্থনীতিতে কোনো কাজেই আসছে না, যা আমাদের অর্থনীতির জন্য খুব খারাপ একটি দিক। তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে বেশ কয়েকটি বড় কারসাজি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১০-১১ সালের বাজার ধসের সময় অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। আর এ জন্যই সবার এই খাতের ওপর একটি নেতিবাচক ধারণা কাজ করে, যে কারণে শেয়ারদর একটু বাড়লেই সবাই ভয়ে বা আতঙ্কে থাকে। আর এই মানসিকতা থেকে সবার বেরিয়ে আসা খুবই জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা যে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছি, সেটি টেকসই করার জন্য পুঁজিবাজারকে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে। তা না হলে দেশের অর্থনীতি টেকসই হবে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের পুঁজিবাজার একটি ইকুইটিনির্ভরশীল বাজার, যা পৃথিবীর কোনো দক্ষ বাজারেই নেই। পাশাপাশি দেশে যারা স্থানীয়ভাবে ব্যবসা করছে বা যেসব বহুজাতিক কোম্পানি এদেশে ভালো ব্যবসা করছে, তাদের ক্যাপিটাল মার্কেটে তেমন অংশগ্রহণই নেই। ভালো কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী নয়। এছাড়া আমাদের নীতিনির্ধারক মহলে যারা আছেন তাদের প্রচণ্ড রকমের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে এবং কথায় ও কাজে কোনো মিল নেই। আমি মনে করি তারা চাইলেই বাজারে যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো দূর করা সম্ভব। গত পাঁচ বছরে দেশের পুঁজিবাজারসংশ্লিস্ট যথেষ্ট পরিমাণ আইন হয়েছে। আর এই আইনগুলো যদি সঠিকভাবে কার্যকর বা বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে দেশের পুঁজিবাজরকে একটি ভালো মাত্রায় নেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু নীতিনির্ধারকদের এসব আইন বাস্তবায়নে ব্যাপক অনীহা রয়েছে।

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম