বাজারের মন্দাবস্থা দীর্ঘায়িত হতে পারে

রুবাইয়াত রিক্তা: বিক্রির চাপ বাড়াতে বড় ধরনের দরপতনের কবলে পড়েছে পুঁজিবাজার। একটানা ১১ কার্যদিবস সূচক পতনে সব খাতে বেশিরভাগ কোম্পানির দরপতন হয়। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মাত্র ২০ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। টানা দরপতনের কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ জানা যায়নি। তবে চীনা কনসোর্টিয়াম দেশের পুঁজিবাজারে কৌশলগত অংশীদার হওয়ার পর বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রয়েছে। তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হতে কিছুদিন সময় লাগবে। এছাড়া রমজান মাস শুরু হচ্ছে। অতীত ইতিহাসে দেখা গেছে, পুঁজিবাজারে এ মাসটিতে মন্দাবস্থা বিরাজ করে। সে ধারাবাহিকতায় চললে পুঁজিবাজারের মন্দাবস্থা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
গতকাল খাতভিত্তিক লেনদেনে দেখা গেছে, সব খাতেই কম-বেশি দরপতনের আধিক্য ছিল। ছোট-বড় মিলে ছয় খাতে একটি কোম্পানির দরও বাড়েনি। এসব খাত হচ্ছে বিবিধ, তথ্য ও প্রযুক্তি, পাট, সেবা ও আবাসন, কাগজ ও মুদ্রণ, ভ্রমণ ও অবকাশ। এই ছয় খাতে শতভাগ কোম্পানি দরপতনে ছিল।
সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় প্রকৌশল খাতে। এ খাতে লেনদেন হয় ২০ শতাংশ বা ৭৪ কোটি টাকা। মাত্র ২৭ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। মুন্নু স্টাফলার ও বিএসআরএম দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১৫ শতাংশ। এ খাতে মাত্র ১৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। কুইন সাউথ ও স্টাইল ক্রাফট দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ। এ খাতে ২৪ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ব্যাংক এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ করে। ব্যাংক খাতে ৩৩ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। ইস্টার্ন ব্যাংক দরবৃদ্ধিতে তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসে। জ্বালানি খাতে ৩১ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। এ খাতের ইউনাইটেড পাওয়ার ও ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। জ্বালানি খাতে নতুন তালিকাভুক্ত ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডের লেনদেন আজ থেকে শুরু হবে। গতকাল লেনদেনের শীর্ষ পর্যায়ে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওয়েস্টার্ন মেরিনের সাড়ে ২২ কোটি টাকা, ইউনাইটেড পাওয়ারের সাড়ে ২১ কোটি, বিএসআরএমের ১৭ কোটি, বেক্সিমকোর প্রায় ১৬ কোটি, স্কয়ার ফার্মার ১২ কোটি, কুইন সাউথের পৌনে ১২ কোটি, গ্রামীণফোনের সাড়ে ১১ কোটি, মুন্নু সিরামিকের ১১ কোটি ও ব্র্যাক ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।