মার্কেটওয়াচ

বাজারে মূল সমস্যা ভালো কোম্পানি ও আস্থার অভাব

বাজারনির্ভর করে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর। বাজারে এ পর্যন্ত যে কয়টি কোম্পানি এসেছে তার বেশিরভাগই স্বল্পমূলধনি। ওইসব কোম্পানির মধ্যে কয়টি ন্যূনতম রিটার্ন দিয়েছে যা বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্ট করেছে? যদি ভালো কোম্পানি বাজারে না আসে তাহলে বিনিয়োগকারীদের রিটার্ন দেবে কী করে? কাজেই বর্তমানে বাজারের মূল সমস্যা হচ্ছে বিনিয়োগকারীর আস্থার অভাব এবং ভালো মানের কোম্পানি না থাকা। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইসিএবির কাউন্সিল মেম্বার শাহাদাৎ হোসেন, এফসিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সালাউদ্দিন চৌধুরী।
শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে ব্যাংক ও বাজারের বেশকিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তারপরেও এ দুটি খাত নিয়ে অনেক নেতিবাচক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ব্যাংক খাতের সুদের হার বেড়েই যাচ্ছে। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বারবার সতর্ক করার পরেও তা থামছে না। অধিকাংশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা যাচ্ছে এবং বাজারের অন্তর্ভুক্ত ব্যাংকগুলো নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে বোনাস শেয়ার দিচ্ছে। আবার অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর চাপ রয়েছে। কারণ বর্তমানে বাজারের যে অবস্থা তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। আসলে একটি দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর আমাদের দেশের বড় একটি অংশ এ বাজারের সঙ্গে প্রতোক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই এ বাজার যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায়, সেক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সরকার এবং বাজারসংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারি করা উচিত। বাজারকে তার আপন গতিতে চলতে দিতে হবে। যখন বাজার আপন গতিতে চলে তখন তার ধারাবাহিকতা থাকে। যখন বাজার তার আপন গতিতে চলতে পারে না, তখন বুঝতে হবে এখানে কোনো কারসাজি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একদিকে ব্যাংক ও বাজার ভালো করার জন্য বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কিন্তু তাতেও এ দুটি খাতে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে শুধু বাজার নয়, ব্যাংক খাতের আরও উন্নয়ন করতে হবে। ব্যাংক খাতের কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে যেমন ব্যাংক পরিচালনা করতে সমস্যা হয় অন্যদিকে বাজারেও সমস্যা দেখা দেয়। আসলে সমস্যাটা এক জায়গায়। বাজারে তারল্য সংকট কেন? কারণ বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তেমন সক্রিয় নয় এবং ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। তাহলে টাকাগুলো কোথায় যাচ্ছে? ধরি বিনিয়োগকারীদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে, ওই বিনিয়োগকারীরা চাইবে ভালো জায়গায় বিনিয়োগ করতে, যেখান থেকে ভালো একটি প্রফিট আসবে এবং বিনিয়োগের সুরক্ষা পাবে। গত ১০ বছরে কয়টি মৌলভিত্তির কোম্পানি বছরে ন্যূনতম ১০ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে। এখন মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ার কিনেও বিনিয়োগকারীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করেন, যেখানে মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ার কিনে ন্যূনতম রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে না বরং লোকসান গুনতে হচ্ছে, তাহলে বাজারে কেন বিনিয়োগ করব? বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। যদি এক্ষেত্রে সঞ্চায়পত্রে বিনিয়োগ করি নির্দিষ্ট সময়ে ভালো একটি রিটার্ন পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, বাজারনির্ভর করে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর। বাজারে এ পর্যন্ত কয়টি ভালো কোম্পানি এসেছে? যা এসেছে তার বেশিরভাগই স্বল্পমূলধনি। ওইসব কোম্পানির মধ্যে কয়টি ন্যূনতম রিটার্ন দিয়েছে যা বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্ট করেছে তা আমার জানা নেই। তাহলে ভালো কোম্পানি বাজারে কেন আসছে না। যদি ভালো কোম্পানি বাজারে না আসে সেক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের রিটার্ন দেবে কী করে? দেখা যাচ্ছে বাজারের মূল সমস্যা হচ্ছে বিনিয়োগকারীর আস্থার অভাব এবং ভালো মানের কোম্পানি না থাকা।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..