বাজারে সবার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ভূমিকা রাখা উচিত

বর্তমান বাজারে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বাড়ছে, কিন্তু বাজারে যদি অর্থের প্রবাহ বেড়ে যায় তাহলে বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের গতিবিধি বাড়বে। তাছাড়া একজন বিনিয়োগকারী কোন শেয়ার কিনবে কি কিনবে না, তা সম্পূর্ণই তার নিজস্ব ব্যাপার। এখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছু করার থাকে না। বাজারে এলে সবার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ভূমিকা রাখা দরকার, এটি করলে অবশ্যই বাজার সম্প্রসারিত হবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন দ্য ডেইলি স্টারের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদুর রহমান ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু সাঈদ আহমেদ, এফসিএ।
সাজ্জাদুর রহমান বলেন, সম্প্রতি রহিমা ফুড ও মডার্ন ডায়িং কোম্পানি দুটির অযৌক্তিক দরবৃদ্ধির কারণে ডিএসই তাদের বাজার থেকে তালিকাচ্যুত করেছে। রহিমা ফুডের শেয়ারদর তো ইতোমধ্যেই অনেক বেড়ে গেছে। জানা গেছে, একটি বড় দল এটি নিয়ে কারসাজি করেছে, যার ভিত্তিতে শেয়ারটির দর অনেক বেড়ে গেছে। শেয়ারটির দর যখন বাড়ছিল তখন ডিএসই অনেকবার তদন্ত করেছিল, কিন্তু তারপরও শেয়ারটির দর ধারাবাহিকভাবে বেড়েই গেছে। এই শেয়ারটিতে হয়তো অনেক বিনিয়োগকারীই বিনিয়োগ করেছে এবং একটি স্বয়ংক্রিয় চাহিদা সৃষ্টির কারণেই দর এত বেড়েছে। শেয়ারটিকে তালিকাচ্যুত করাতে হয়তো সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখানে যা করেছে তা আইনের মধ্যে থেকেই করেছে। তিন বছর ধরে কোনো উৎপাদন না থাকার পরও শেয়ারদর অযৌক্তিক হারে বেড়ে যাওয়াতে তাদের তালিকাচ্যুত করেছে এসইসি। এখন তারা ওটিসি মার্কেটে যেতে পারবে। এসইসির এই সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে; কিন্তু কথা হচ্ছে, গুজবের ভিত্তিতে কেন বিনিয়োগকারীরা এসব খারাপ শেয়ারে বিনিয়োগ করবে? লভ্যাংশ তো দূরের কথা, যাদের উৎপাদন নেই, কারখানা নেই, সেসব শেয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াটি স্বাভাবিক। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাজারে ধারাবাহিকভাবে কিছু খারাপ শেয়ারের দর মাত্রাতিরিক্ত বাড়ছে। ১৮ তারিখে ইউনাইটেড এয়ার ছিল বাজারের টপ গেইনার। ওই দিন ১০ শতাংশের মতো বেড়েছে শেয়ারটির দর। প্রশ্ন হচ্ছে, রহিমা ফুড ও মডার্ন ডায়িং এই দুটি কোম্পানিকে যদি তালিকাচ্যুত করা হয় তাহলে এটিকে কেন করা হলো না? এ ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোই ভালো জানে। বাজারে এলে আইনমতো সবকিছুই করা উচিত এবং আইনের আওতায় যদি আরও পাঁচটি কোম্পানি আসে, তাহলে তাদেরও আইন অনুযায়ী সাজা দেওয়া উচিত। এতে বিনিয়োগকারীদের বাজারের প্রতি কিছুটা আস্থা ফিরে আসবে।
আবু সাঈদ আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের ভূমিকা অনেক, কিন্তু অনেক দিন ধরে এই খাতের তেমন কোনো গতিবিধি লক্ষ করা যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে আমার মনে হয়, দেশের জনগণ বিভিন্ন মিডিয়াতে ব্যাংক খাতের নানা কেলেঙ্কারি নিয়ে যে হারে খবর পাচ্ছে তাতে বিনিয়োগকারীরা এই খাতের ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি পুঁজিবাজারে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বাড়ছে। আর বর্তমান বাজারের যে অবস্থা তাতে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বাড়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে করি। বাজারে যদি অর্থের প্রবাহ বেড়ে যায় তাহলে বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের গতিবিধি বাড়বে। তাছাড়া বাজারে একজন বিনিয়োগকারী কোন শেয়ার কিনবে কি কিনবে না, তা সম্পূর্ণই নির্ভর করে তার ওপর। এখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার করার কিছু থাকে না। বাজারে এলে সবার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ভূমিকা রাখা দরকার। এটি করলে অবশ্যই বাজার সম্প্রসারিত হবে।

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম