হোম প্রচ্ছদ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে দুর্বল কোম্পানি : ক্যাপিটাল গেইনে মেতেছেন বিনিয়োগকারীরা

বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে দুর্বল কোম্পানি : ক্যাপিটাল গেইনে মেতেছেন বিনিয়োগকারীরা


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: কিছুতেই কমছে না পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও নামসর্বস্ব কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বৃদ্ধির দৌরাত্ম্য। বরং ক্রমেই এসব কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে বাজার। আর এসব কোম্পানির শেয়ারদর কেন বাড়ছেÑতা জানা নেই কারও। বিনিয়োগকারীরা কোনো বিচার-বিবেচনা না করেই ঝুঁকছেন এসব কোম্পানিতে। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার কথা ভাবা কিংবা লভ্যাংশ পাওয়ার চিন্তা না করে ‘ক্যাপিটাল গেইনে’ মেতেছেন তারা। কীভাবে স্বল্প সময়ে পুঁজি দ্বিগুণ করা যায়, সেই চিন্তায় এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করছেন তারা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিদিনই লেনদেন শুরুর পরপরই কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রেতা শূন্য হয়ে পড়ছেন। এগুলোর বেশিরভাগই  দুর্বল তথা ‘জেড’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির। এছাড়া কিছুসংখ্যক ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিও রয়েছে। বিক্রেতা না থাকায় প্রতিদিনই সার্কিটব্রেকার স্পর্শ করে দর বাড়ছে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের।

গতকাল বুধবার লেনদেনের শুরুতেই কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিক্রেতা শূন্য হয়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে উসমানিয়া গ্লাস, দুলামিয়া কটন, হাক্কানী পাল্প, মিরাকল, নিটল ইন্স্যুরেন্সসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগেরই আর্থিক অবস্থা দুর্বল। এক মাসের ব্যবধানে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত।

কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার বিষয়ে কথা হয় হাক্কানী পাল্পের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ মুসার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কেন আমাদের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়ছে, তা জানা নেই। আমরা একটি নতুন প্রজেক্ট করবো। কিন্তু এর জন্য সময়ের প্রযোজন। তার সঙ্গে দর বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে করি না।’

এদিকে নামসর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়লেও এ-বিষয়ে বিএসইসি’র গাফিলতি রয়েছে বলে মনে করেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়লে বিএসইসি কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখা। কিন্তু সেটা না করে তারা এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেই শেষ। এ সময়ের মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের যা ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসই’র এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কোন শেয়ার কোন হাউজ থেকে অস্বাভাবিক হারে লেনদেন হচ্ছে, বিএসইসি সেটা সহজেই জানতে পারে। ফলে কোনো সমস্যা মনে হলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু সেটা না করে তারা দর্শকের ভূমিকা পালন করে। আর যখন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তখন সেটা আর কোনো কাজে আসে না।’

একই প্রসঙ্গে স্টার্লিং সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কোনো বিশেষ খবর কিংবা গুজবে অনেক সময় এসব শেয়ারের দর বাড়তে দেখা যায়; কিন্তু আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় এসব শেয়ারের দর বেশি দিন স্থায়ী হয় না। বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের সব সময় খেয়াল রাখা দরকার।’

অন্যদিকে যারা দ্রুত মুনাফার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন, ভবিষ্যতে তারা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন, বাজারে অনেক ভালো শেয়ার থাকলেও বিনিয়োগকারীরা এখন স্বল্প সময়ে দ্রুত মুনাফার জন্য এসব শেয়ারের পিছে ছুটছেন; এটি বাজারের জন্য সুখের খবর নয়। তবে বিনিয়োগকারীরা এটা সব সময় বোঝেন না। তাদের নিরাপদ রাখার দায়িত্ব বিএসইসি’র। তারা যদি নামমাত্র দায়িত্ব পালন করে, তাহলে বাজারের সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন হবে না।

এ-প্রসঙ্গে ডিএসই’র প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান বলেন, ‘সব সময় বলে থাকিÑপুঁজি যার, নিরাপত্তার কথা তাকেই ভাবতে হবে। তারা যদি জেনেশুনে কোনো ভুল করেন, তবে এর দায় অন্য কেউ নেবে কেন?’