মার্কেটওয়াচ

বাজার ভালো করতে হলে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট নিয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে কয়েকদিন আগে বাজার ইতিবাচক হয়েছিল। কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আবার আইসিবিকে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছে। বাজারে দৈনিক টার্নওভার ৩০০ কোটির নিচে নেমে এসেছে। ৭৫০ কোটি টাকা তো দুদিনের লেনদেন। সুতরাং ৭৫০ কোটি টাকা দিয়ে বাজারে কিছু হবে না। বাজার ভালো করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ এবং পদ্ধতিগতভাবে এগোতে হবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। আহমেদ রশীদ লালীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আহসানুল আলম পারভেজ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক জামালউদ্দিন আহমেদ।
আহসানুল আলম পারভেজ বলেন, দেশের ব্যাংক খাতে হ-জ-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে বা এ খাতটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ ২২টি ব্যাংকের প্রভিশন রাখার সক্ষমতা নেই। বাজারের অন্তর্ভুক্ত ১৪টি ব্যাংকের নগদ প্রবাহ নেতিবাচক এবং আরও কয়েকটি ব্যাংক তাদের পরিচালনা ব্যয়ে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে বেশিরভাগ ব্যাংক ঋণ দিতে পারছে না। আসলে ব্যাংক খাত এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলোকে মার্জার করতে হবে। কথা হচ্ছে মানি ও ক্যাপিটাল মার্কেট উভয়ই একে উপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই মানি মার্কেটে কোনো সমস্যা দেখা দিলে বাজারে এর প্রভাব পড়ে।
তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে বাজার একটু ইতিবাচক ছিল। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিনিয়োগসীমা অর্থাৎ এক্সপোজার লিমিট নিয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আবার আইসিবিকে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছে। এখন কথা হচ্ছেÑবাজারে দৈনিক টার্নওভার ৩০০ কোটির নিচে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ৭৫০ কোটি টাকা তো দুদিনের লেনদেন। সুতরাং ৭৫০ কোটি টাকা দিয়ে বাজারের কিছু হবে না। বাজার ভালো করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ এবং পদ্ধতিগতভাবে এগোতে হবে।
জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, যেখানে ভারত ব্যাসেল-২ গাইডলাইন বাস্তবায়নে ব্যর্থ এবং সেখানে ব্যাংক খাতে বিশাল খারাপ অবস্থা যাচ্ছে। আর বাংলাদেশ ব্যাসেল-৩ গাইডলাইন বাস্তবায়ন করে আসছে। দেশে এমন উন্নত না যে ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়নে সক্ষম। তাই ব্যাসেল-৩ গাইডলাইন থেকে সরকারের সরে আসা উচিত এবং সরকার সে পথেই এগোচ্ছে। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে বাংলাদেশ এখনও ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়ার চেয়ে অনেক নিচে এবং আমেরিকা ও ইউরোপ প্রভৃতি দেশগুলো আরও উন্নত। এখন যদি ওইসব দেশের নিয়মনীতি এদেশে চালু করি তাহলে গ্রোয়িং অর্থনীতির দেশ হিসেবে সমস্যা হবে। তাই দেশের অর্থনীতির অবস্থার সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলতে হবে। আর বর্তমানে দেশে অর্থনীতির যে অবস্থানে রয়েছে এবং ২০৩০ সালে আরও সামনের দিকে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে, সেক্ষেত্রে প্রতিটি সিদ্ধান্ত ভেবে চিন্তে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন কৃষি ব্যাংক, শিল্প ব্যাংক, আইসিবি এবং হাউজ বিল্ডিং করপোরেশন প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে কোনো প্রাইভেট খাতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। আবার আইসিবি তার সঠিক ভূমিকা পালন করছে না। তাই ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে আরও প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা উচিত। তাহলে দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। শুধু ব্যাংক খাত দিয়ে দেশের ফাইন্যান্সিয়াল সমস্যা সমাধা করা যাবে না।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..