প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বাজেটের পর চলছে দুর্বল কোম্পানির খেলা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য নানা প্রণোদনা থাকার পরও সার্বিক বাজারচিত্রে এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। একযোগে কমছে অধিকাংশ মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারদর। কিন্তু এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে ‘জেড’ ও দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের বেলায়। বাজেটে আগে এসব কোম্পানির আধিপত্য কিছুটা কমলেও এখন আবার এসব কোম্পানির দাপট দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই দর বৃদ্ধির দৌড়ে এগিয়ে থাকছে এসব কোম্পানি। গতকালও এর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।
গতকালের লেনদেন চিত্রে দেখা যায় নূরানী ডায়িং, ফাস্ট ফাইন্যান্স, জাহিন টেক্সটাইল, মালেক স্পিনিং, রিজেন্ট টেক্সটাইল, মেট্রো স্পিনিংসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর উল্লেখযোগ্যহারে বাড়ছে। এর আগের কার্যদিবসগুলোতেই এ ধরনের কোম্পানির আধিপত্য দেখা গেছে।
গতাকাল নূরানী ডায়িংয়ের শেয়ারদর বাড়ে প্রায় ১০ শতাংশ। দিন শেষে এ শেয়ার লেনদেন হয় ১৬ টাকা ৯০ পয়সায়। একইভাবে জাহিন টেক্সটাইলের শেয়ারদর ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে ৯ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়। এছাড়া মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ারদর আট শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দিন শেষে ১৭ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়। এদিন মেট্রো স্পিনিংয়ের শেয়ারদর বাড়ে প্রায় ছয় শতাংশ। দিন শেষে এ শেয়ার লেনদেন হয় আট টাকা ৩০ পয়সা।
গতকাল ঢাকার পুঁজিবাজার কিছুটা চাঙা ছিল। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ৫২৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে সূচক ২৪ পয়েন্ট বেড়ে দিন শেষে স্থির হয় পাঁচ হাজার ৪০০ পয়েন্টে। কিন্তু এদিনও দুর্বল এবং ‘জেড’ ক্যাটেগরির প্রভাব ছিল লক্ষণীয়।
বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, জুয়াড়িরা সবসময় ইস্যুর অপেক্ষায় থাকে। এসব ইস্যুকে সামনে রেখে তারা ফায়দা হাসিল করতে চায়। বাজেটের পরও তারা এমন ফাঁদ পেতেছে। তারা কৌশলে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়িয়ে তা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে নিজেরা বাজার থেকে স্বল্প সময়ের জন্য সরে থাকেন। আবার দর কমে গেলে এসব শেয়ার কিনে নেন। এভাবে কিছু প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তারা নিজেরা ফায়দা লুটেন। আর এদের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
এ প্রসঙ্গে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘পুঁজিবাজার থেকে একটি চক্র সবসময় সুবিধা নিতে চান। তারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে সুবিধা নেন। তাই এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার বিকল্প কিছু নেই। তারা যেন কোনো ধরনের ভুল না করেন। পুঁজিবাজারে এখন অনেক ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারের দর ক্রয়যোগ্য রয়েছে। দুর্বল কোম্পানির দিকে না ঝুঁকে তারা যদি এসব কোম্পানি দেখেশুনে বিনিয়োগ করতে পারেন, তাহলে তারা ভালো ফল আশা করতে পারবেন।’
একই প্রসঙ্গে ডিএসই পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য অনেক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এটা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটা সুযোগ। এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য তাদের ভালো কোম্পানির সঙ্গে থাকতে হবে। দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের সঙ্গে থাকলে বিনিয়োগকারীরা এ সুযোগ পাবেন না। তাই নিজের পুঁজি বাঁচানোর জন্য তাদের ভালো শেয়ারের সঙ্গে থাকা জরুরি।
প্রসঙ্গত, প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হতে প্রাপ্ত লভ্যাংশ আয়ে করমুক্ত সীমা বাড়ানো হয়েছে। ২৫ হাজার টাকা থেকে যা ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি বোনাস লভ্যাংশ পাওয়ার মধ্য দিয়ে যাতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য এবারের বাজেটে এর ওপর ১৫ শতাংশ কর ধার্য করা হয়েছে। একইভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের রিটেন্ড আর্নিং ও রিজার্ভ যদি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশ বেশি হয়, তাহলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এর পাশাপাশি দ্বৈতকর, দুর্বল কোম্পানির মার্জার সুবিধাসহ আরও কিছু প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

সর্বশেষ..