বাণিজ্যমেলার ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রয়-পরবর্তী সেবা নিয়ে শঙ্কা  

 

জাকারিয়া পলাশ: টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রিতে নানা রকমের ছাড় ঘোষণা করছে বাণিজ্যমেলায় অংশ নেওয়া দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলো। বিশ্বকাপ দেখার টিকিট, মালয়েশিয়া ভ্রমণের সুযোগ থেকে শুরু করে নানা রকম নিশ্চিত পুরস্কারের অফার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব পণ্যের বিক্রয়-পরবর্তী সেবার নিশ্চয়তা নিয়ে দেখা গেছে নানা সংশয়। এ বিষয়ে মেলার বিক্রয়কর্মীরা পূর্ণ আশ্বাস দিলেও মেলার বাইরে কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন শোরুমের বিক্রেতা ও ডিলাররা বলছেন ভিন্ন কথা।

এ কারণে বাণিজ্যমেলায় নানা রকম ছাড়ের কথা বলা হলেও ক্রেতারা অনেকেই কোম্পানির মূল শোরুম থেকে পণ্য কিনছেন। রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার এক ব্যক্তি সম্প্রতি র‌্যাংগস ইলেকট্রনিকস থেকে সনি ব্র্যান্ডের একটি টিভি কেনেন বাংলামোটর বিক্রয়কেন্দ্র থেকে। বাণিজ্যমেলায় নানা রকম ছাড় ও পুরস্কারের ঘোষণা সত্ত্বেও সেখান থেকে না কেনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এর আগে মেলা থেকে অনেক পণ্য কিনেছি। ওরা পণ্যে মূল্যছাড় দেয়। কিন্তু পণ্যের সমস্যা হলে তা নিয়ে কোনো শোরুমে গেলে সেবা পাওয়া যায় না। শোরুমের লোকেরা জানতে চায় কোথা থেকে কিনেছি। তারপর বলে দেয় অমুক শোরুমে যান। ফলে সস্তায় কিনলেও পরে সমস্যা হয়।’

রামপুরার শফিকুল ইসলাম একটি নতুন ফ্রিজ কিনেছেন দুদিন আগে। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যমেলায় ওয়ালটন পণ্য কিনলে আট শতাংশ ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। সেখান থেকেও ওরা সরাসরি বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে যেকোনো পণ্য। কিন্তু ওখান থেকে কোনো পণ্য কেনার পর তাতে সমস্যা হলে সেগুলোর সার্ভিস নিয়ে নিশ্চিত হতে পারিনি। এ কারণে ওয়াল্টনের প্লাজা থেকেই কিনলাম ফ্রিজটি। এখানে কিছুটা ছাড় পাওয়া গেলেও পণ্যটি বাসায় নিয়ে যেতে হচ্ছে নিজের খরচে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বাণিজ্যমেলার প্যাভিলিয়নে ওয়াল্টনের টিভি-ফ্রিজসহ বিভিন্ন পণ্য বিপুল পরিমাণে বিক্রি হলেও পল্টন, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, রামপুরা, বাড্ডা, গুলশানসহ বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রেও প্রতিদিন এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। রামপুরার ওয়াল্টন প্লাজার সহকারী ব্যবস্থাপক মো. দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ছুটির দিনেও সেখান থেকে সাতটি ফ্রিজ বিক্রি হয়েছে।

অবশ্য মেলা প্রাঙ্গণে কর্মরত ওয়াল্টনকর্মীরা জানিয়েছেন, ওয়াল্টন পণ্যের বিক্রয়-পরবর্তী সেবার বিষয়ে কোনো সংশয় নেই। নির্ধারিত নাম্বারে কল করলেই কোম্পানির পক্ষ থেকে পণ্যের বিক্রয়-পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করা হবে। তাছাড়া ফ্রিজের কম্পেসারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের আট থেকে ১০ বছর পর্যন্ত রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি রয়েছে, যা যেকোনো জায়গা থেকে কিনলেই পাওয়া যাবে। ইলেকট্রো মার্টের কঙ্কা ও হাইকো ব্র্যান্ড্রের ফ্রিজ বিক্রেতা শেয়ার বিজকে বলেন, তারা যেকোনো পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ছাড় দিচ্ছেন। তবে বিক্রয়-পরবর্তী সেবা কীভাবে দেওয়া হবে সে বিষয়ে তিনি বললেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন।

আরএফএল’র ইলেকট্র্রনিকস পণ্য ভিশন ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি হচ্ছে মেলায়। মেলা প্রাঙ্গণে ভিশনের প্যাভিলিয়নে কথা বলে জানা গেছে, সেখানেও পণ্যের বিক্রির জন্য বিশেষ ছাড় ও সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিক্রয়-পরবর্তী সেবার বিষয়ে সব বিক্রয়কর্মীরা বিস্তারিত জানাতে পারছেন না। তারা বলছেন, কোম্পানির নিয়মানুযায়ী ক্রেতারা পূর্ণ সুবিধা পাবেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন মূল্যবান ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রির জন্যও মেলায় কোম্পানিগুলো অস্থায়ী ভিত্তিতে বিক্রয়কর্মী নিয়োগ করেছে। ওইসব নতুন কর্মীরা পণ্যের কারিগরি বিষয়গুলো সম্পর্কে অনভিজ্ঞ। তাছাড়া তারা ক্রেতাদের সেবা দেওয়ার বিষয়েও একেবারে আনকোরা। এসব কারণেও অনেকে ক্রেতাদের সন্তুষ্ট করতে পারছে না।

অবশ্য কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা দাবি করছেন সব ধরনের বিক্রয়-পরবর্তী সেবার বিষয়ে বাণিজ্যমেলা ও বাইরের অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্রের মধ্যে কোনো ভিন্নতা নেই। এ প্রসঙ্গে ওয়ালটনের প্যাভিলিয়নের ইনচার্জ ও শ্যাওড়াপাড়া প্লাজার ব্যবস্থাপক শফিকুল আলম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমি নিজেই একটি প্লাজার ইনচার্জ। পণ্য যেখান থেকেই কেনা হোক, ক্রেতার কাছে কাগজপত্র থাকলে আমি সেখান থেকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। সুতরাং এক্ষেত্রে সংশয়ের অবকাশ নেই।’

এদিকে বিভিন্ন কোম্পানির নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রের বিক্রেতা এবং অন্য ডিলারদের বক্তব্যের মধ্যেও ভিন্নতা দেখা গেছে। যমুনা ইলেকট্র্রনিকসের রামপুরার ডিলার মো. শামীম ব্যাপারী এ প্রসঙ্গে শেয়ার বিজকে জানান, ‘ডিলারদের কাছে কোম্পানির সব মডেলের পণ্য পাওয়া যায় না। ডিলাররা বেছে বেছে ভালো ও নিখুঁত পণ্য নিয়ে আসেন। বাণিজ্যমেলায় অনেক কোম্পানিই তাদের সাপ্লাই না-হওয়া পণ্যগুলো ছাড় দিয়ে বিক্রি করে থাকে। এ কারণে বাণিজ্যমেলার পণ্যের মান নিয়ে সংশয় থাকে। আমরা সব ক্রেতাকেই এটা বলি।’