সম্পাদকীয়

বাণিজ্যমেলায় রফতানি আদেশ বাড়াতে উদ্যোগ নিন

চলতি বছরের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা শেষ হলো গত শনিবার। এ মেলার পরিসর বিশাল হওয়ায় প্রত্যাশাও থাকে অনেক। সে লক্ষ্যেই এর নামকরণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। মেলায় দেশীয় কোম্পানিগুলোর পণ্যের প্রচার ও প্রসারের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ রফতানি আদেশ আসবে বলে প্রত্যাশা থাকে। হতাশাজনকভাবে সেটি হচ্ছে না। এর আয়োজন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল তৈরিতে যে পরিমাণ ব্যয় হচ্ছে, তার চেয়ে খুব বেশি পরিমাণ রফতানি আদেশ পাওয়া যাচ্ছে না, যা কাম্য নয়। বাণিজ্যমেলার সর্বোচ্চ সুফল পেতে এখানে যাতে রফতানি আদেশ বাড়ে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘শেষ হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা: রফতানি আদেশ এসেছে ২০০ কোটি টাকার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এবারের বাণিজ্যমেলায় অর্ধকোটির অধিক ক্রেতা-দর্শক আসার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রায় ২০০ কোটি টাকার রফতানি আদেশ পেয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী এ মেলা সফল হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, বিক্রিও ভালো হয়েছে। তবে এ মেলা কতটা সফল হয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে কিন্তু প্রশ্ন উঠছে। দেশি ক্রেতার সংখ্যা আশানুরূপ হলেও বিদেশি ক্রেতাদের উপস্থিতি নিয়ে হতাশা বেশি।
বাণিজ্যমেলা আয়োজনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় ধরলে খরচের অঙ্কটা আরও বেশি। অবশ্য টিকিট বিক্রি থেকে কিছু অর্থ আয় হলেও তা নিয়ে সন্তুষ্টির সুযোগ নেই। বর্তমানে দেশের বার্ষিক রফতানি আয় প্রায় চার হাজার কোটি ডলার। সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় মাত্র ২০০ কোটি টাকার রফতানি আদেশ আসা হতাশাজনকই বটে। এত বড় আয়োজন করেও কাক্সিক্ষত রফতানি আদেশ না আসার কারণ খতিয়ে দেখা জরুরি। এর পেছনে যে ব্যাপারগুলো ভূমিকা রাখছে, তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বাণিজ্যমেলা পূর্বাচলে আয়োজন করার ব্যাপারেও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে এটি সম্ভব নয় বলে শনিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। অথচ পূর্বাচলে এ ধরনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন বলেই জানা যাচ্ছে। যাহোক, বাস্তবতার আলোকেই হয়তো সরকার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তবে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাণিজ্যমেলা আয়োজন করায় রাজধানীবাসীর কিন্তু ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে মাসজুড়েই। যান চলাচল ও ট্রাফিক ব্যবস্থায় অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে। মোট কথা, ঢাকায় এ মেলা আয়োজনের পরিবেশ নেই তা স্পষ্ট।
অবশ্য বাণিজ্যমেলা রাজধানী থেকে স্থানান্তরের কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ব্যাপারটি ইতিবাচক। তবে এজন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এটি স্বল্প সময়ের মধ্যে করা গেলে রাজধানীর ওপর চাপ কমবে বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..



/* ]]> */