বিশ্ব বাণিজ্য

বাণিজ্যযুদ্ধ ও ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত হওয়ার আহ্বান চীনের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বাণিজ্যযুদ্ধ ও ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে গত শনিবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এ আহ্বান জানান। এর আগের দিন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ চীন সফর করেন। খবর: রয়টার্স।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মরগ্যান ওরট্যাগাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, টেলিফোনালাপে ওয়াং ই পম্পেওকে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র যেন ‘বেশিদূর’ অগ্রসর না হয়। এ সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দু’দেশই ধৈর্য ও আত্মসংযম প্রদর্শন করবে বলে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। এর আগে একই অভিমত দিয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পুতিন এও বলেন, ইরান পারমাণবিক সমঝোতা চুক্তি মেনে চলছে এবং এ থেকে দেশটির বের হয়ে আসা ঠিক হবে না।
এদিকে টেলিফোনালাপে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক মতবিরোধকে কেন্দ্র করেও ‘বাড়াবাড়ি’ না করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সে সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক আলোচনা আবার শুরু করারও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে এমন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও স্বার্থকে হুমকি দেওয়ার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছেন। ওই অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরি ও বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছেন।
এদিকে দু’দেশের শীর্ষ নেতারা যুদ্ধের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপকে ‘মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’ ও ‘রাজনৈতিক খেলা’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান। বেইজিং সফর থেকে ফিরে এসে জারিফ বলেছেন, ‘কোনো যুদ্ধ হবে না; কারণ আমরা কেউ যুদ্ধ চাই না, আর এ অঞ্চলে ইরানের মুখোমুখি হওয়ার মতো ধারণা বা বিভ্রান্তিতেও কেউ ভুগছে না।’
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত সপ্তাহে পারস্য উপসাগরে কয়েকটি তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে; এরপর নিজেদের বাগদাদ দূতাবাস থেকে কিছু কূটনীতিক কর্মীকে সরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি-ধমকির পর ইরানের প্রতিবেশী ইরাকের একটি তেলক্ষেত্র থেকে বিদেশি কর্মীদের সরিয়ে নেয় তেল কোম্পানি এক্সন মবিল। অন্যদিকে বাহরাইন ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতির’ জন্য তাদের নাগরিকদের ইরাক অথবা ইরানে ভ্রমণ করার বিষয়ে সতর্ক করে। ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা মার্কিন বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসগুলোকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের ওপর দিয়ে চলাচলের সময় সাবধানতা অবলম্বন করার আহ্বান জানায়।
অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ বেইজিংয়ে দু’দিনব্যাপী আলোচনায়ও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি তারা। এর মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও উসকে দিয়ে আরও চীনা পণ্যে আমদানি শুল্ক বসানোর কথা ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। পাল্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে বেইজিংও।

সর্বশেষ..



/* ]]> */