বিশ্ব বাণিজ্য

বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে। ১১ দফার বৈঠকে মেলেনি সমাধান। চীন থেকে আমদানি করা যে সব পণ্যে এখনও শুল্ক বসানো হয়নি, সেগুলোর উপরেও ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সে ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে নতুন করে শুল্ক চাপাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এ ব্যাপারে শিল্প ও বিভিন্ন ব্যক্তিসহ নানা পক্ষের মতামত নিচ্ছে ওয়াশিংটন। কিন্তু এদেরই একাংশের মতো, চীনের পণ্যে শুল্ক চাপালে দেশীয় শিল্পেরই ক্ষতি। কারণ, সে ক্ষেত্রে চাপ পড়বে কাঁচামালের দামে। কমবে পণ্যের চাহিদা। মার খাবে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানও। গত সোমবার থেকে টানা এক সপ্তাহ প্রশাসনের সঙ্গে সশরীরে দেখা করে কথা বলবে বিভিন্ন পক্ষ। বাণিজ্য দফতরে চিঠিও পাঠিয়েছে অনেকে। আবেদন জানিয়েছে শুল্কের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে। খবর: রয়টার্স।
চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি লিখেছে দেশটির অন্তত ৬০০ কোম্পানি। এর মধ্যে ওয়ালমার্ট, টার্গেট করপোরেশনের মতো শীর্ষ স্থানীয় কোম্পানিও রয়েছে। বৃহস্পতিবার লেখা ওই চিঠিতে তারা বলেছে, শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শুল্কারোপের কারণে সৃষ্ট সমস্যায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি ট্রাম্প প্রশাসনকে নানাভাবে বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। এরই মধ্যে অন্তত ১৫০ কোম্পানির সমর্থনে ‘ট্যারিফ হার্ট দ্য হার্টল্যান্ড’ শীর্ষক ক্যাম্পেইনও শুরু হয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে কৃষি, উৎপাদন, খুচরা বিক্রি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ইতোমধ্যেই ২৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপরে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন হুমকির জেরে যে তাদের বিক্রি বড় ধাক্কা খেয়েছে তা প্রথমবার স্বীকার করল চিনা টেলিকম সংস্থা হুয়েই। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও রেন ঝেংফেই জানিয়েছেন, উৎপাদন ছাঁটাই করা হতে পারে।
বহুদিন ধরেই বৈরী সম্পর্কের মধ্যে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়। একে অন্যের ওপর কয়েক বিলিয়ন ডলার শুল্কারোপ করে বাণিজ্যযুদ্ধের দিকে এগিয়ে গেছে তারা। উভয় দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব বুঝতে পেরে এ বাণিজ্যযুদ্ধ অবসানে আলোচনা শুরু করে দুদেশ। কিন্তু আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় ট্রাম্প শুল্ক বাড়িয়ে বাণিজ্যযুদ্ধ উসকে দিয়েছেন। কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দুদিনব্যাপী বাণিজ্য আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দুদেশ।
দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ ব্যবসায়ী ও ক্রেতার মধ্যে যেমন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, তেমনি বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। কিছু মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতার জন্য শুল্ক বাড়ানোটা একটি ধাক্কার মতো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এশিয়ান ট্রেড সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডেবোরাহ এলমস বলছেন, ‘এটি অর্থনীতিতে এক বড় ধাক্কা দিতে যাচ্ছে।’

সর্বশেষ..