বাণিজ্যের দুর্দশা: লেনদেন খরচ

মিজানুর রহমান শেলী: নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকা আমাদের জন্য কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়ে একটু পরিষ্কার করতে চাই। এই তালিকা আমাদের ব্যবসার স্বার্থে বেশ অবদান রাখে। কিন্তু এর ওপর আমরা কখনোই নির্ভর করি না। এখানে লেনদেন খরচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেবল এ বিষয়েই আমরা এই তালিকা থেকে সুবিধা নিয়ে থাকি। তবে সেই সুবিধাটি ঠিক কী পর্যায়ের এবং তা আমাদের স্বার্থে কীভাবে অবদান রাখে সেটা নিয়ে এখানে কিছু বলার আছে। আমরা কখনোই বিশ্বাস করি না বা আশা করি না, এই তালিকা বার্কশায়ারের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লেনদেন খরচ কমিয়ে দেবে। তবে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা সত্য যে, আমরা সব সময়ই শেয়ারহোল্ডারদের প্রলুব্ধ বা আকর্ষণ করতে চাই বার্কশায়ারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য। সাধারণত সেসব শেয়ারহোল্ডারকে আমরা প্রলুব্ধ করে থাকি যারা সাধারণত দীর্ঘদিন ধরে আমাদের চার পাশে অবস্থান করছে। যাদের আমরা ভালো বিনিয়োগকারী হিসেবে জানি। এমনকি অবশ্যই তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে অভ্যস্ত হয়ে থাকে।
এসব ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডারদের খরচের বিষয়টা নিয়ে আমরা ভাবি এবং এই সুবিধাটি তাদের দিতে চাই। যখন এসব শেয়ারহোল্ডার স্টকে প্রবেশ করে কিংবা স্টক থেকে বেরিয়ে যায়, তখন তাদের খরচকে কীভাবে কমিয়ে আনা যায় কিংবা শেষের কোটায় নামানো যায় সেজন্য আমরা প্রচেষ্টা চালাতে থাকি। আমরা চেষ্টা করি যাতে করে দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের মালিকদের প্রি-ট্যাক্সের থোক রিওয়ার্ডগুলো কোম্পানির ব্যবসায় অর্জনের সমান হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, এখানে কোম্পানি লেনদেন খরচ কমিয়ে এনে এই ব্যবসায় অর্জনের হার বাড়িয়ে দেয়। এটা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মঙ্গলজনক হয়ে ওঠে। সত্য কথা হলো, মার্কেটপ্লেসের এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। কেননা, মার্কেটপ্লেসের ওপরই নির্ভর করে কোম্পানি তার লেনদেন খরচ কমাতে পারবে কি না। সাধারণত বার্কশায়ার এই মার্কেটপ্লেসকে মাথায় রেখে কোম্পানির লেনদেন খরচ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়। এই খরচের মধ্যে থাকে দালাল বা ব্রোকারদের কমিশন চার্জ এবং বাজার আয়োজকদের কমিশন। মোটের ওপর, আমরা বিশ্বাস করি এই লেনদেন খরচগুলো বাস্তবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয় কেবল নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে।
লেনদেন খরচ সবার জন্যই কষ্টকর হয়ে যায়। তবে সক্রিয় স্টকগুলোর জন্য এসব লেনদেন খরচ খুব বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। অবাক হয়ে যেতে হয় তখন, যখন এই খরচ ১০ শতাংশে উঠে যায়। এমনকি কিছু কিছু স্টক বা পাবলিক কোম্পানি যে পরিমাণ আয় করে তার চেয়ে এই খরচের পরিমাণ বেশি হয়ে যায়। এর প্রভাবে এই খরচগুলো মালিকদের কাছে অতি কষ্টদায়ক ট্যাক্স বা করের মতো মনে হয়। তাছাড়া কেউ কেউ নিজে ইচ্ছে করলে স্বাধীনভাবে চেয়ার পরিবর্তন করতে পারে। যাহোক, এই বাজার বা মার্কেটপ্লেস থেকে উত্তোলিত এসব কমিশন তারা কখনোই ওয়াশিংটনকে দেয় না বরং ফাইন্যান্সিয়াল কমিউনিটিকে দেয়। বার্কশায়ারের পক্ষ থেকে আমাদের নীতি ও আপনাদের বিনিয়োগী আচরণ এই ট্যাক্সকে কমিয়ে দিয়েছে। এর সুবিধা বার্কশায়ারের মালিকরা ভোগ করে থাকে। আমরা বিশ্বাস করি, এটা বিভিন্ন বড় বড় পাবলিক কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে কম খরচের স্তর। এটাকে নিশ্চয় বার্কশায়ারের সাফল্য বলতে হবে। শেয়ারহোল্ডাররা আমাদের এই সুবিধাকে লুফে নিতে চায়। আর আমরা তাই তাদের এই সুবিধা দিয়ে আকৃষ্ট করি।
এদিকে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকা বার্কশায়ার মালিকদের জন্য অবশ্য আরও বেশি খরচ কমিয়ে আনে। ‘মার্কেট-মার্কেট ম্প্রেড’কে আরও সরু করার মাধ্যমে তারা এ কাজটি বার্কশায়ারের জন্য করে থাকে। নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের আওতাধীনে আমাদের কমপক্ষে দুজন স্বাধীন ডিরেক্টর অবশ্যই থাকে। বোর্ড অব ডিরেক্টরদের মধ্যে কেবল ম্যালকম চেইচ নির্বাচিত হয়েছিল মে মাসের নির্বাচনে। কেননা তিনি স্বাধীনতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তাদের চোখে।
বেশিরভাগের অকৃতকার্যতার অবশ্য ভালো একটি ফলাফল এসেছিল। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, চার্লি আর আমি খুব আনন্দের সঙ্গেই ওয়াল্টার স্কট জুনিয়রকে সবার কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। তিনি পেটার কিউত সন’স ইঙ্কের সিইও। তিনি বার্কশায়ার বোর্ডে যোগদান করেছিলেন। আমাদের সময়ে যেসব কোম্পানির ব্যবসার গল্প খুব চাহর হয়ে থাকে। এই সেরাদের মধ্যে পিকেএস বা পেটার কিউত সন’স ইঙ্কের গল্প বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে সবার কাছে বিবেচিত হয়। এই কোম্পানিটির মালিকানায় রয়েছে কোম্পানিতে যারা চাকরি করেন তারাই। কার্যত কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা এ কোম্পানির পুরোপুরি মালিকানা বেশ প্রবলভাবে অনুভব করে থাকেন। কোম্পানিটির ফাইন্যান্সিয়াল রেকর্ড অতিশয় চমৎকার। এতটাই চমৎকার যে, আমি তার পুরোপুরি বিবরণ দিতে সাহস পায় না। আমার ভয় হয়, যদি তাদের কোম্পানির পুরো আর্থিক ইতিহাস তুলে ধরি তবে আমাদের শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে একটি প্রলুব্ধিজনিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে। এই কোম্পানিটি যিনি সামনে থেকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি হলেন পিটি কিউইত। তিনি তার কঠোর ও নমনীয় বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করে এ প্রতিষ্ঠানকে চালিয়েছেন তার জীবদ্দশার শেষ দিন অবধি সফলতার সঙ্গে। আর এই কোম্পানিটিতে তার মৃত্যুর আগে অন্য একজনকে যোগ্য নেতা বা পরিচালক বাছাই করে গিয়েছেন তিনি নিজেই এবং তার হাতেই কোম্পানি পরিচালনার ভার দিয়ে গিয়েছেন। তিনি হলেন ওয়াল্টার। এমনকি এটাকে তিনি তার প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ঐতিহ্য বা প্রথা বা নিয়মও বানিয়ে দিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। এভাবেই যেন একটি সফল প্রতিষ্ঠান সব সময় নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে সফল হয়ে থাকে। ওয়াল্টার তার হƒদয়ের একেবারে ভেতর থেকেই নিজেকে এই কোম্পানির মালিক বলে মনে করেন। একেবারে পুরোপুরি মালিক মনে করেন। এই কোম্পানির সমস্যা সম্ভাবনা এবং লাভ ও ক্ষতিকে তার নিজের বলে মনে করেন। এমনকি তিনি যখন বার্কশায়ারের বোর্ডে অবস্থান করেন তখন এই বোর্ডটাকে তিনি তার নিজের বাড়ি বলে মনে করেন।
এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত মন্তব্য হলো: ‘আপনাদের এই বিষয়ে এবেবারে পরিষ্কার হওয়া উচিত যে, আমরা কোনোভাবেই নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকার দিকে তাকিয়ে থাকি না। আমরা আমাদের বার্কশায়ারের শেয়ার থেকে বেশি মূল্য বা লাভের জন্য এ তালিকাকে কখনোই আমাদের ভাগ্য মনে করি না। বার্কশায়ার যখন বিক্রি করতে চাই, তখন আমরাও বিক্রির জন্য স্বপ্ন বুনি। এটা তখনই হয় যখন নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ একটি নির্দিষ্ট দাম বিপরীত বাজারের কাছে প্রস্তাব করে থাকে। ফলে সব জায়গায় একই আর্থিক পরিবেশ পরিস্থিতি বিরাজ করতে থাকে।’
নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকা কখনোই যেন কোনো শেয়ার কিনতে বা বিক্রি করতে আপনাকে প্রলুব্ধ না করে। এটা খুব সাধারণভাবে তার খরচ কমিয়ে আনে। আর আপনি এগুলো বিচার করে যখন খুশি তখন আপনি কেনাবেচায় আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

এই দর্শন রচনাবলি সম্পাদনা করেছেন লরেন্স এ. কানিংহ্যাম।
অনুবাদক: গবেষক, শেয়ার বিজ।