বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পদক্ষেপ নিন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ৭০ হাজার কোটি টাকা। এ কারণে ব্যাহত হচ্ছে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে অনেক বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। এগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়াও বেড়েছে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি। অন্যদিকে হ্রাস পেয়েছে প্রবাসী ও রফতানি আয়। এ কারণেই সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। উন্নয়নশীল কোনো দেশের জন্য এ পরিস্থিতি স্বভাবতই কাম্য নয়। বস্তুত গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৯১ শতাংশ। এটাও বিশেষভাবে লক্ষণীয়। দেশের অর্থনীতি যে সঠিক ধারায় রয়েছে সামগ্রিকভাবে এ অবস্থা তা নির্দেশ করে না। ক্রমে এটি এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বলতার দিকে। আমরা মনে করি, এ থেকে উত্তরণের জন্য নীতিনির্ধারকদের যথাযথ ভাবনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। নইলে আন্তর্জাতিক লেনদেনে দায় পরিশোধের সক্ষমতা আমাদের আরও কমে যাবে। এ অবস্থায় নির্ভর করতে হবে কঠিনতর শর্তের বিদেশি ঋণের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতির জন্য তা স্বভাবতই সুফল বয়ে আনবে না।

রফতানির তুলনায় আমদানি বাড়লে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে এক্ষেত্রে ঘাটতি কিছুটা কমিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল। কয়েক বছর ধরে এক্ষেত্রে বিরাজ করছে নেতিবাচক প্রবণতা। গত কয়েক মাসে প্রবাসী আয়ের ধারা অবশ্য কিছুটা ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা সামান্যই। শিগগির এ অবস্থার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবেÑএমন কোনো লক্ষণও নেই। এ অবস্থায় উচিত হবে রফতানি আয় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। বিদেশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করেও এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব। সেজন্য অবশ্য উন্নতি করতে হবে জ্বালানিসহ অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো খাতে। বাস্তবায়নাধীন বড় প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে এ দুই খাতের কিছুটা উন্নতি হয়তো হবে। তবে এসবের কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক লেনদেনের চলতি হিসাবে ভারসাম্য কীভাবে স্বাভাবিক রাখা যাবে, সেজন্য প্রয়োজনীয় বিকল্পও বের করতে হবে নীতিনির্ধারকদের। মূল্য অপেক্ষাকৃত বেশি দেখিয়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির নামে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে একশ্রেণির ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ধরনের প্রবণতা রোধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে সংশ্লিষ্টদের। চলতি অর্থবছরে সেবা খাতেও ঘাটতি দাঁড়িয়েছে উল্লেখযোগ্য। বড় কিছু প্রকল্পের কাজ অব্যাহত থাকাতেই এমনটি হয়েছে বলে মনে হয়। সেবা খাতে নিয়োজিতদের বেতন-ভাতা অপেক্ষাকৃত বেশি দেখানোর মাধ্যমেও অর্থ পাচার হচ্ছেÑকিছুদিন আগে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল শেয়ার বিজে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে ব্যাপারেও সংশ্লিষ্টদের থাকতে হবে সতর্ক। সর্বোপরি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ঘাটতি কমানোর মাধ্যমে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়াতে উপযুক্ত পদক্ষেপই কাম্য এখন।