বিশ্ব বাণিজ্য

বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে জাপানকে ট্রাম্পের চাপ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চার দিনের সফরে জাপানে রয়েছেন। সফরের তৃতীয় দিনে গতকাল সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি জোর দেন এবং বাণিজ্য ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বলেন আবেকে। এ সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রিকরণ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তবে দু’দেশের মধ্যে খুব দ্রুতই চুক্তি করার কোনো ইঙ্গিতও দেননি তিনি। খবর রয়টার্স।
আবের সঙ্গে বৈঠকের পর গতকাল ট্রাম্প বলেন, ন্যায্য পথে জাপানে রফতানি বাড়িয়ে বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করাই তার লক্ষ্য ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন খুব শিগগির বড় ধরনের বাণিজ্য ঘোষণা আসবে এবং দু’দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছেন বলে জানান। ট্রাম্প বলেন, ‘জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি। বহু, বহু বছর ধরেই এ ঘাটতি চলছে। জাপান এখান থেকে বড় সুবিধা নিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা ব্যবসায়িক মেধাসম্পন্ন এবং আলোচনায়ও ভালো পারদর্শী, যা আজকে তারা আমাদের একটি কঠিন অবস্থায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আমি মনে করি আমাদের জাপানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আবে জানান, তারা দুজন বাণিজ্য আলোচনায় রাজি হয়েছে। তবে সময় নির্ধারণ করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।
দু’বছর আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাণিজ্য উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে বাণিজ্য ঘাটতি। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে জাপানকেও চাপ দিয়েছেন তিনি। এমনকি জাপানি গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর সম্ভাব্য মার্কিন শুল্কারোপেরও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির তথ্যানুসারে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের পণ্য ও সেবা বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার।
বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনায় রয়েছে দেশ দুটি। এ প্রসঙ্গে শনিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় টোকিও এবং ওয়াশিংটন একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ট্রাম্প বলেন, এ চুক্তি বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলা, মার্কিন রফতানির প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং আমাদের সম্পর্কের মধ্যে ন্যায্যতা ও পারস্পরিকতা নিশ্চিত করতে পারবে বলে আমি আশা করছি।
টয়োটার ওপর সম্ভাব্য গাড়ি শুল্কারোপ নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে জাপানে সফর করছেন ট্রাম্প। এরই মধ্যে জাপান ও ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাগুলোকে শুল্কারোপ নিয়ে বেশ কয়েক দফা হুমকি দিয়েছেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে গাড়ি আমদানির ওপর শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত ছয় মাস পিছিয়ে নেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইথিজারকে টোকিও ও ব্রাসেলসের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে নিলেও গাড়ি আমদানি যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি সম্ভাব্য হুমকি তা সুস্পষ্ট করে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ট্রাম্পের এ বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে টয়োটা।
জাপানের গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিটি জানিয়েছে, গাড়ি আমদানি নিয়ে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি মূলত টয়োটার জন্য একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে আমাদের বিনিয়োগ দেশটিতে স্বাগত নয় এবং পুরো আমেরিকায় আমাদের প্রত্যেক কর্মীর অবদানের কোনো মূল্য নেই।

সর্বশেষ..