সম্পাদকীয়

বাণিজ্য ঘাটতি রোধে রফতানি বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিন

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমদানি-রফতানির ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাধারণভাবে চলতি হিসাবের মাধ্যমে দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝানো হয়। আমদানি-রফতানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধির চেয়ে আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি কম হলেও পণ্য বাণিজ্যে বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল এক হাজার ৪৬৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি কমবেশি এক লাখ ২৩ হাজার ১২৭ কোটি টাকা।
বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়া মানে আমাদের রফতানি প্রত্যাশিত মানে বাড়ছে না। পোশাক ও রেমিট্যান্সের মতো বড় খাতগুলোয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করায় সার্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে। রফতানি পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব।
কোন কোন খাতে আমদানি বাড়ছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বৃদ্ধির কারণে সার্বিক আমদানি বাড়তে পারে। এটি ইতিবাচক। দেখতে হবে প্রকৃতপক্ষে এ খাতে আমদানি বাড়ছে কি না, কতটা বাড়ছে। অনেক সময় দেখা যায়, ওভার ইনভয়েসিং করে বা বেশি দাম দেখিয়ে অর্থ পাচার হয়। তাই আমদানি ব্যয়ের আড়ালে অর্থ পাচার হওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমানে পদ্মা সেতুসহ বড় বড় অবকাঠামোগত মেগা প্রকল্পের জন্য কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি করতে হয়। এ কারণেও বাণিজ্য ঘাটতি বেশি হতে পারে। কিন্তু সেটি পরিমাণও জানা জরুরি।
গত অর্থবছরের ১১ মাস শেষে ইপিজেডসহ সব ধরনের রফতানি থেকে আয় হয়েছে তিন হাজার ৭১৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ১৮৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ঘাটতি কমিয়ে আনতে এ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে।
যেসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বেশি, তা কমিয়ে আনতে হবে। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বেশি। এটি কমাতে বিদ্যমান ৪৬টি পণ্য নয়, দেশটিতে অন্তত ১০০টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার ডুয়িং বিজনেসসহ বিভিন্ন জরিপ ও প্রতিবেদনে দেশ যাতে এগিয়ে থাকে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ লক্ষ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও নিরাপত্তা প্রশ্নে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। বিদেশিরা সাধারণত এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো দেশে বিনিয়োগে সিদ্ধান্ত নেয়। বিদেশি বিনিয়োগ বাণিজ্য ঘাটতি রোধে ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকেবে বলেই প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..