বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ জি-৭ সম্মেলন

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে ইস্পাত ও আলুমিনিয়াম পণ্য আমদানিতে শুল্কারোপে ইউরোপসহ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য উত্তেজনা যুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছায়। এর মধ্যে গত শুক্রবার ও শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-৭ সম্মেলন। ওই সম্মেলনের আগেই বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বাগ্যুদ্ধে জড়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পরেও সবার নজর ছিল সম্মেলনে বাণিজ্য উত্তেজনা নিরসনে নেতাদের উদ্যোগের দিকে। কিন্তু কোনো ধরনের বিরোধ নিরসন ছাড়াই শেষ হয়েছে ওই সম্মেলন। বাণিজ্য শুল্কারোপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিরোধ আরও বেড়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্র–ডো। জবাবে সম্মেলন শেষে স্বাক্ষরিত যৌথ ঘোষণা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ট্রাম্প। খবর বিবিসি, রয়টার্স।
কানাডায় অনুষ্ঠিত এবারের জি সেভেন সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক বাণিজ্য নিয়ে মতৈক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছিল। দু’দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান, ইতালি ও কানাডার নেতাদের মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্কের পর শনিবার সমঝোতা হয়। এদিন পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক বাণিজ্যের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে আট পৃষ্ঠার যৌথ বিবৃতি ঘোষণা করে সাত দেশ। সংরক্ষণবাদ নীতি মোকাবিলা এবং বাণিজ্য বাধা দূর করার ব্যাপারে বিবৃতিতে অঙ্গীকার করা হয়। ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আর সেতুবন্ধন রচনা করা গেল না। সম্মেলন শেষ হতে না হতেই ওই বিবৃতি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তার দাবি, অন্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘বিপুল শুল্ক’ আরোপ করছে।
জি সেভেন সম্মেলন শেষ হওয়ার পর একটি সংবাদ সম্মেলন করেন ট্রুডো। সম্মেলনে তিনি বলেন, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্কারোপের কারণ হিসেবে ট্রাম্প যে নিজ দেশের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের যুক্তি দেখিয়েছেন তা ‘অপমানজনক’। ট্রুডো বলেন, ‘এটা আপসোসের বিষয়। তবে করতে হবে। আমরা ১ জুলাই থেকে স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার আগাম কানাডা ছেড়েছেন ট্রাম্প। ১২ জুন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক করতে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। সিঙ্গাপুর যাওয়ার পথেই একটি টুইট করে জি সেভেনের সমঝোতামূলক বিবৃতি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
টুইটারে ট্রাম্প লিখেছেন, অটোমোবাইলের ওপর শুল্কারোপের জন্য তার দেশের কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের জি সেভেনের যৌথ বিবৃতি অনুসরণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর ‘সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া মিথ্যা বক্তব্যকে’ কেন্দ্র করে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। তার অভিযোগ, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, শ্রমিক ও কোম্পানিগুলোর ওপর বিপুল শুল্ক আরোপ করছে। ট্রুডোকে ‘অসৎ ও দুর্বল’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জি সেভেন সম্মেলনে নম্র-ভদ্র আচরণ করেছেন। আমি সেখান থেকে চলে আসার পর যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেখানে তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ অপমানজনক এবং তাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। খুব অসৎ ও দুর্বল। ডেইরি খাতে তার আরোপিত ২৭০ শতাংশ শুল্কের জবাবেই আমাদের শুল্ক।’