প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বাবুল চিশতীদের জন্য ধুঁকছে ব্যাংক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক ফারমার্স ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে দেশের ব্যাংক খাত বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ে। এসব অনিয়মের অধিকাংশের সঙ্গেই জড়িত ছিলেন ব্যাংকটির সাবেক নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী)। যার কারণে এখন সমগ্র ব্যাংক খাত ধুঁকছে। আস্থা হারিয়েছেন গ্রাহক, দেখা দিয়েছে তারল্য সংকট।
প্রায় ১৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে কারাগারে আছেন ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ওই পরিচালক। তার হাত দিয়েই ফারমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে। চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকটির শুরু থেকেই অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল বাবুল চিশতীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার এজাহারে বলা হয়, ব্যাংকিং নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মাহবুবুল হক চিশতী ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় স্ত্রী, সন্তান ও নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ২৫টি হিসাব খোলেন। পরে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের সহায়তায় গ্রাহকের হিসাব থেকে পাঠানো ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ওই ২৫টি হিসাবে স্থানান্তর করেন। সেসব টাকা নিজেদের হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও লেয়ারিংয়ের পাশাপাশি নিজেদের নামে কেনা শেয়ারের দাম পরিশোধ করেছেন। লেনদেনের একটি বড় অংশই হয়েছে গুলশান শাখা থেকে।
মাহবুবুল হক চিশতী এবং তার পুত্র রাশেদুল হক চিশতীর জামিন আবেদন বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগে বারবার ব্যর্থ হয়ে বর্তমানে নিম্ন আদালতের বিচার কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে, যা তাদের বারবার মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিম্ন আদালত থেকে জামিনের আদেশপ্রাপ্তির বিষয়টি থেকে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। এরই মধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষ করে জানান, বাবুল চিশতী, রাশেদুল হক চিশতী, রোজি চিশতী, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, মো. মাসুদুর রহমান খানদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে, অসৎ উদ্দেশ্যে এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা নগদে ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে মাহবুবুল হক চিশতী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামীয় বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে আত্মসাৎ করাসহ নিজেদের নামে কেনা ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারা মোতাবেক আসামিদের বিচারে সোপর্দ করে শাস্তি প্রদানের প্রার্থনা করে তিনি চার্জশিট প্রদান করেন। বর্তমানে মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকায় বিচারের জন্য বদলি হয়ে বিশেষ দায়রা-৪৩/২০১৯ নং মামলায় রূপান্তরিত হয়ে আগামী ১৪ জুলাই এ আমলে গ্রহণ শুনানির অপেক্ষায় আছে। রাষ্ট্রবিরোধী বিশেষ চক্রটিকে অতিসত্বর চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় না আনা হলে দেশ ও দেশের অর্থনীতি প্রবল হুমকির মুখে পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্যাংক খাতে অর্থ আত্মসাৎ বা ঋণখেলাপিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কোনো নজির নেই দেখে ক্রমেই এ ধরনের কাজ করতে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন ব্যাংকাররা। এতে বাড়ছে অর্থ আত্মসাতের মতো ভয়াবহ ঘটনা। তারা বলছেন, বাবুল চিশতীদের মতো ভয়ঙ্কর অর্থ আত্মসাৎকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সরকারের উচিত একটি উদাহরণ সৃষ্টি করা, যাতে কেউ অন্যায় করে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে না পারে। অর্থ আত্মসাৎকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা করলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা দৃঢ় হবে। নির্বিঘেœ ব্যাংকে অর্থ জমা রাখতে আসবেন সাধারণ গ্রাহকরা।

সর্বশেষ..