বাহারি ও শৌখিন পণ্যের মেলা

নেই ঝড়ো হাওয়া কিংবা ঝমঝম বৃষ্টি। আছে সোনা রোদের আলতো ছোঁয়া। তাই ধূলিকণা উপেক্ষা করে দূরদূরান্ত থেকে দোকানিরা নানা ধরনের পসরা নিয়ে ভিড় করছেন মেলা প্রাঙ্গণে। দশনার্থী ও ক্রেতাসাধারণও এ মেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে বাহারি ও শৌখিন পণ্যের সন্ধানে ভিড় করছেন প্রতিদিন। শিশুদের স্কুল ছুটি থাকায় গৃহিণীরা দলবেঁেধ আসছেন মেলায়। আনুষ্ঠানিকতা উপেক্ষা করে নিজেদের পছন্দসই পণ্য দেখছেন আর দরদাম মিলিয়ে নিচ্ছেন। মণ্ডামিঠাই, মাটির তৈরি নানা সামগ্রী, রেশমি চুড়ি, পুতুল, বাঁশি, মুখোশ, নৌকা, ফুলদানি, ফুলের ঝাড়–, ব্যাগ, ঝাড়ু, হাতপাখা, তামা, পিতল ও কাসার সামগ্রী, মেয়েদের চুড়ি, বাঁশ ও কাঠের তৈরি গয়না, হাঁড়ি-পাতিল, কলসি, কুলা, চালন, ছুরি, কাঁচিসহ বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটায় সময় পার করছেন তারা। চতুর্থ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ারের (বিআইটিইএফ) কথা।

সিএমসিসিআই’র উদ্যোগে চট্টগ্রামের হালিশহর আবাহনী মাঠে চলছে এই মেলা। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও এ মেলায় মেগা প্যাভিলিয়ন, মিডিয়াম প্যাভিলিয়ন, স্ট্যান্ডার্ড প্যাভিলিয়ন, ব্যাংক, বিমাসহ ২০০টি স্টল আছে। আর এসব স্টলে নানা ধরনের পণ্য সারিবদ্ধভাবে সাজানো। এসব স্টলে মাটির শোপিস থেকে শুরু করে আছে পিএইচপির তৈরি করা গাড়িও। ১ ডিসেম্বর এ মেলা উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি।

দেশীয় শিল্পের প্রসার, সুরক্ষা ও নীতিগত সমর্থনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে নীতিনির্ধারণে সহযোগিতা, উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, যৌক্তিক শুল্কহার নির্ধারণ, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং উৎপাদিত পণ্যের বিপণনে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মেলার আয়োজন করা হয়। এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান কেডিএস, বিএসআরএম, এস আলম, প্রাণ আরএফএল গ্রুপ, নিটল-নিলয়, টিকে, পিএইচপি গ্রুপ প্রভৃতি। প্রায় ২০০টি স্টল বসেছে এবারের মেলায়। এ মেলায় এসব স্টলের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে সরাসরি নিজেদের পণ্য তুলে ধরছেন তারা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে মেলা অঙ্গন।

মেলায় আগত গৃহিণী শামসুন নাহার বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় বিকালবেলায় মেলা ঘুরতে এসেছি। পছন্দমতো পণ্য পেলে কিছু কিনব। এমন মেলায় অনেক সময় ভালো কিছু জিনিস সুলভে পাওয়া যায়।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আমিনুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, মেলায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম রয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকায় সার্বক্ষণিকভাবে র‌্যাব টহল দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মেলার সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারি করছেন। দর্শনার্থীদের  সুবিধার কথা চিন্তা করে  নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টার রয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিবেচিত বুথ ও প্যাভিলিয়নকে বিশেষ পদক প্রদান এবং মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে সনদপত্র দেওয়া হবে।