বাড়ানো হোক ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার

রাজধানীর পানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ভূ-গর্ভস্থ পানির উত্তোলন বাড়িয়েছে ঢাকা ওয়াসা। খবরে প্রকাশ, এ লক্ষ্যে গত নয় বছরে বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে ৩৩৭টি গভীর নলকূপ। এতে রাজধানীতে পানি সংকটের এক ধরনের সমাধান হয়তো হয়েছে; তবে এ কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার পাশাপাশি ভূমিকম্প ঝুঁকি বৃদ্ধির খবরটিও উদ্বেগের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর রাজধানীতে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে গড়ে এক মিটার আর ভূ-গর্ভস্থ পানির উত্তোলন বৃদ্ধির কারণে বাড়ছে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগের ঝুঁকি। শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ড নয়, একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে আরও কয়েকটি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিবেদনে। বস্তুত পানি চাহিদা মেটানোর মতোই রাজধানীতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি প্রশমন কোনো অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এ বিষয়েও খেয়াল রাখা উচিত ঢাকা ওয়াসার নীতিনির্ধারকদের। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে যাতে দ্রুত সরে আসা যায়, সেজন্য উদ্যোগী হতে হবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকেও (রাজউক)।

২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ঢাকা ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক উল্লেখ করেছিলেন, সংস্থাটির সরবরাহ করা পানির ৮৩ শতাংশই ভূ-গর্ভস্থ। ওই সময় ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ বৃদ্ধি নিশ্চিতেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। দেখা যাচ্ছে, এ ক’বছরেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। বরং ঢাকায় গভীর নলকূপের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে আগের তুলনায়। এ ধরনের কূপ স্থাপনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়াই কি এর প্রধান কারণ? গত নয় বছরে ঢাকায় যেসব কূপ স্থাপন করা হয়েছে, সেসবে ব্যয়ও কিন্তু কম হয়নি। এসবের পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় তো রয়েছেই। এ লক্ষ্যে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, পানি শোধনাগার স্থাপনে তা ব্যয় করা হলে নানা বিবেচনায় সেটা ইতিবাচক হতো বলেই মনে হয়।

একসময় বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পানির ওপর নির্ভরতা বেশি ছিল ঢাকা ওয়াসার। এগুলোর পানির ব্যবহারযোগ্যতা কমে আসায় নির্ভরতা বাড়াতে হচ্ছে ঢাকার বাইরের নদীর ওপর। বলা বাহুল্য, প্রকল্প ব্যয়ও বাড়ছে এ কারণে। এ ধরনের প্রকল্পের বাস্তবায়ন কিছুটা সময়সাপেক্ষ হলেও সার্বিক বিবেচনায় এখন শোধনাগার স্থাপনেই বেশি মনোযোগ দিতে হবে সংস্থাটিকে। কোনো কোনো এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহারে যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, সেটিও রাখতে হবে বিবেচনায়। বর্তমানে রাজধানীতে সাধারণভাবে তীব্র পানি সংকট রয়েছে বলে মনে হয় না। এ অবস্থায় ঢাকা ওয়াসার উচিত হবে পানি শোধনাগার স্থাপনের যেসব প্রকল্প চালু রয়েছে, যথাসময়ে সেগুলো বাস্তবায়ন করা। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শোধনাগার স্থাপনের নতুন প্রকল্প হাতে নিয়ে গভীর নলকূপ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়টিও ভেবে দেখা যেতে পারে। সুপেয় ও ব্যবহারযোগ্য পানির সংকট মানুষ বেশিদিন সহ্য করতে পারে না। সেটি নিশ্চিত করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের আবার এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যাতে মানুষের স্বাস্থ্য ও ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে জীবনের ঝুঁকি বেড়ে ওঠে।