বিইআরসির কাছে দুই হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা চায় পিডিবি

লোকসানের দায়

ইসমাইল আলী: গত অর্থবছর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সে সময় পাইকারি (বাল্ক) বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রস্তাব দিলেও তা অনুমোদন করা হয়নি। উল্টো পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম কিছুটা কমানো হয়। এতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর সাত মাসে পিডিবিকে বাড়তি লোকসান গুনতে হয়েছে দুই হাজার ৭৮৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এ অর্থ অনুদান হিসেবে চেয়ে বিইআরসিকে চিঠি দিয়েছে পিডিবি।
সম্প্রতি পাঠানো এ চিঠিতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর বিইআরসি কর্তৃক পিডিবির জন্য জারি করা বাল্ক বিদ্যুৎ মূল্য আদেশে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ মূল্য ধরা হয় পাঁচ টাকা ৪৪ পয়সা। আর বিদ্যুতের পাইকারি বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয় চার টাকা ৮৪ পয়সা। এ ঘাটতি হিসেবে প্রতি ইউনিটে ৬০ পয়সা ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে অনুদান হিসেবে গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এর ভিত্তিতে সরকারের কাছ থেকে প্রতি ইউনিটে ৬০ পয়সা অনুদান হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে গ্যাস স্বল্পতার কারণে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলো ডিজেল দ্বারা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তরল জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ও ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পিডিবির প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয় দাঁড়ায় ছয় টাকা ২৫ পয়সা। অপরদিকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় পিডিবির প্রতি ইউনিট বাল্ক বিদ্যুৎ বিক্রয় মূল্য কমে দাঁড়িয়েছে চার টাকা ৮২ পয়সা। এতে পিডিবির প্রতি ইউনিটে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৪৩ পয়সা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ঘাটতির মধ্যে ৬০ পয়সা হিসেবে ভর্তুকি দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে প্রতি ইউনিটে এখনও ৮৩ পয়সা ঘাটতি রয়ে গেছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত তিন হাজার ৩৫৭ কোটি ইউনিট (কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুৎ পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ করেছে পিডিবি। এতে অর্থবছরের সাত মাসে সংস্থাটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৭৮৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
প্রতি ইউনিটে ৮৩ পয়সা ঘাটতি হওয়ায় পিডিবির নগদ স্থিতি নিঃশেষ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোর মাসিক বিল পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে। অপরদিকে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল কেনার জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) অগ্রিম অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে পিডিবি। তাই দুই হাজার ৭৮৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা পিডিবিকে অনুদান হিসেবে প্রদান করা প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিইআরসিকে অনুরোধ করে পিডিবি।
জানতে চাইলে পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ শেয়ার বিজকে বলেন, গত ডিসেম্বর থেকে প্রতি ইউনিটে ৬০ পয়সা হিসেবে অনুদান দিচ্ছে অর্থ বিভাগ। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে পিডিবিকে প্রদত্ত পুরোনো ঋণকেও অনুদানে রূপান্তরের প্রক্রিয়া নির্ধারণে আলোচনা চলছে। তবে চলতি অর্থবছর অতিরিক্ত ঘাটতি দেখা দিয়েছে ইউনিটপ্রতি ৮৩ পয়সা। এজন্য ঘাটতি বাবদ অতিরিক্ত অর্থ অনুদান হিসেবে প্রদানে বিইআরসির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। অনুদান পাওয়া না গেলে পিডিবির কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর উচ্চ মূল্যে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করে পিডিবি। এতে ২০১০-১১ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত আট বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে সংস্থাটিকে। ভর্তুকির পরিবর্তে ঘাটতিতে এ অর্থ ঋণ হিসেবে দেওয়া হতো পিডিবিকে। আবার এ ঋণের ওপর তিন শতাংশ সুদও দাবি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে গত নভেম্বরে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার সময় ঘাটতি অর্থকে অনুদান হিসেবে প্রদানের সুপারিশ করে বিইআরসি।