বিএনপির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার: রিজভী

শেয়ার বিজ : নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ গত পাঁচ দিনে বিএনপি’র পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, নাজিম উদ্দীন আলম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সভাপতি মতিউর রহমান মন্টুসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গত পাঁচ দিনে গোয়েন্দা বাহিনী, পুলিশসহ সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে।

তিনি বলেন, কালকের সভা বানচাল করতে এবং আমাদের নির্বাহী সদস্যরা যেন উপস্থিত হতে না পারেন, তার জন্য সরকার চক্রান্ত করেছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার করছে। এরপরও সকল ভয়, শঙ্কা অতিক্রম করে গতকাল সাফল্যের সাথে নির্বাহী কমিটির সভা করেছি আমরা। সকল বাধা মোকাবিলা করে আমাদের নেতারা সভায় উপস্থিত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, গতকাল আমাকেও গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা বাহিনীর গাড়ি পিছু নিয়েছিল। কিন্তু রাস্তা ফাঁকা থাকায় তারা আমাকে ধরতে পারেনি। এমন আতঙ্ক, ভয়, হুমকির মধ্য দিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে। এটি হলো আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন পুলিশের প্রতি মানুষের নাকি ভালোবাসা বাড়ছে। দেশের বরেণ্য রাজনীতিক, বিজ্ঞ আইনজীবী, অসহায় মানুষকে অযথা হয়রানি করে, আটক করে মিথ্যা মামলা দিয়েও নাকি পুলিশের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বাড়ছে! হায় সেলুকাস!

রিজভী বলেন, পুলিশ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের মতো কাজ করছে। দলীয় কাজ করাতে গিয়ে পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনী বানাচ্ছে সরকার। পুলিশকে হাস্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হচ্ছে। পুলিশকে দলস্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে সুকৌশলে পুলিশের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ বিষয়গুলি নিয়ে আপনাদের চিন্তা-ভাবনা করা দরকার। জনইচ্ছার বিরুদ্ধে দাঁড়ালে সুনাম নষ্টের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ধসে যায়। আপনাদের অনুরোধ করছি-ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের উপাসক হবেন না।

রিজভী আরও বলেন, সম্পূর্ণ নির্দোষ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জাল নথির ওপর ভিত্তি করে অসত্য মামলায় ধারাবাহিক হয়রানি ও হেনস্তার পর ৮ ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে জনগণ। এখানে সরকারের প্রতিশোধ স্পৃহার প্রতিফলন ঘটে নাকি ন্যায়বিচার হয়, সেটিই এখন অবলোকন করার বিষয়। ন্যায়বিচার হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত হবে না।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক সন্ধ্যায়: আজ রাতে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গুলশানের চেয়ারপারসন কার্যালয়ে রাত সাড়ে ৮টায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বেগম খালেদা জিয়া।

কাল সিলেট যাচ্ছেন খালেদা: সোমবার সকাল ৮টায় খালেদা জিয়া হযরত শাহজালালের মাজার জিয়ারতের জন্য সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বলে জানিয়েছেন রিজভী।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং এরশাদ সিলেটের মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের এ যাত্রাও সেরকম কিছু কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে রিজভী বলেন, তাদের কাজ তারা করেছেন। কে কী করছে, তা দেখে বেগম জিয়া কিছু করেন না। বেগম খালেদা জিয়া একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ। হজরত শাহজালালের মাজার জিয়ারত করতে যান তিনি প্রায়ই। এটিও তেমন একটি যাত্রা। এ পর্যন্ত আমি জানি, তিনি মাজার জিয়ার করে ফিরে আসবেন।