প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বিএসইসিতে বিনিয়োগকারীদের একগুচ্ছ প্রস্তাব

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি কিছুটা ছন্দে ফিরেছে পুঁজিবাজার। সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর। এর জের ধরে বিনিয়োগকারীরাও পুঁজিবাজারে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। অর্থাৎ পুঁজিবাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এ স্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদি করতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের (বিএসইসি) কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। প্রস্তাবনায় অর্থ পাচার রোধে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা শর্তে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়াসহ আরও কিছু বিষয় ওঠে এসেছে।
এই লক্ষ্যে গতকাল বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি এ. কে. এম মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত প্রস্তাবনা-সংক্রান্ত চিঠি নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে পুঁজিবাজারে যে পতন শুরু হয়েছিল তা ক্রমান্বয়ে সিরিজ পতনের মাধ্যমে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এই সময়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তাই মাঝে মধ্যে বাজার সামান্য স্থিতিশীল হলেও সম্পূর্ণ স্থিতিশীল আচরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ইস্যুমূল্যের নিচে অবস্থান করা শেয়ারগুলো নিজ নিজ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদকে কিনে নেওয়া, প্লেসমেন্ট শেয়ারের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ এবং লকইন পিরিয়ড পাঁচ বছর, বাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে আসন্ন বাজেটে পুঁজিবাজারে অর্থের জোগান বৃদ্ধির জন্য সহজশর্তে অর্থাৎ তিন শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ, যা আইসিবি, বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে পাঁচ শতাংশ হারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লোন হিসেবে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া।
অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ধরনের আইপিও তিন বছরের জন্য বন্ধ রাখা, ভবিষ্যতে আইপিওতে কোনো প্রকার প্রিমিয়াম না দেওয়া, জেড ক্যাটেগরি এবং ওটিসি মার্কেট বলতে কোনো মার্কেট থাকতে পারবে না, তালিকাভুক্ত সব কোম্পানিকে কমপক্ষে ১০ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ প্রদান করতে হবে, রাইট শেয়ার এবং বোনাস শেয়ার দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।
চিঠিতে দাবির বিষয়ে আরও বলা হয়েছে, বিডিং প্রক্রিয়ায় ইলিজিবল ইনভেস্টরদের সক্ষমতা ও যোগ্যতা যাচাই এবং বিডিং প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত শেয়ারের লকইন পিরিয়ড থাকবে দুই বছর, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আইপিও কোটা ৮০ শতাংশ, ২ সিসি আইনের বাস্তবায়ন করতে যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের ব্যক্তিগতভাবে দুই শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই ওইসব উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের বিচার, পুঁজিবাজারের প্রাণ মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে পুঁজিবাজারে সক্রিয় হতে বাধ্যকরণ এবং প্রত্যেক ফান্ডের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে কমপক্ষে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান, জীবন বিমা খাতের বিপুল পরিমাণ অলস এবং সঞ্চিত অর্থের ৪০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাধ্যকরণ, জানুয়ারি ২০১১ হতে জুন, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..