স্পোর্টস

বিএসএমএমইউ’র সফলতার সুফল পাক সাধারণ মানুষও

প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখনও চ্যালেঞ্জ। তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। তবে এ দুটি ক্ষেত্রেই এখনও আমরা সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। হাসপাতাল, ডাক্তার, নার্সের স্বল্পতার কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া সরঞ্জাম এবং সুযোগ-সুবিধা না থাকায় কাক্সিক্ষত সেবা মিলছে না। এর মধ্যেই চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নিলেও জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসায় সমস্যা রয়েই গেছে। বিশেষত মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষকে অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। আশার কথা হলো, হাজারো সমস্যার মধ্যেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মতো কিছু হাসপাতাল স্বল্পমূল্যে সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘বিএসএমএমইউতে ২৫ লাখ টাকায় লিভার প্রতিস্থাপন’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশে সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বিএসএমএমইউ’র হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগে। চিকিৎসকদের হিসাবমতে, একজনের শরীরে সফলভাবে লিভার প্রতিস্থাপনের খরচ হচ্ছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা। দেশের বড় অংশের মানুষের এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের সামর্থ্য না থাকলেও, বাস্তবতা হলো বিশ্বের অধিকাংশ দেশের তুলনায় এটি অনেক কম। ভারতেও খরচ প্রায় এক কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে বিএসএমএমইউয়ের সাফল্যের সুফল সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বিএসএমএমইউ কিংবা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মতো সীমিত সংখ্যক হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও রোগীর চাপে সেখানকার ডাক্তার, নার্সদের গলদঘর্ম হতে হয়। ফলে অবস্থাসম্পন্নরা মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করে ভারত, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্যের মতো দেশে চিকিৎসা নিতে যান। কিন্তু মধ্যবিত্ত কিংবা দরিদ্র শ্রেণির মানুষের সে সুযোগ না থাকায় দেশের হাসপাতালেই নির্ভর করতে হয়। সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে কঠিন বাস্তবতারও মুখোমুখি তাদের হতে হচ্ছে। এ অবস্থায় কম খরচে দেশেই উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে বিএসএমএমইউ পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে নিঃসন্দেহে।
বিএসএমএমইউ, ঢাকা মেডিক্যালসহ দেশের অনেক হাসপাতালেই এখন বিশ্বমানের চিকিৎসক রয়েছেন। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং সবার সদিচ্ছা থাকলে দেশেই চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। এজন্য দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ডাক্তার-নার্সদের আরও সক্রিয় হওয়া জরুরি। এছাড়া সরকারকেও অবকাঠামোসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সবাই উদ্যোগী হলে দেশে আর একজনও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে পতিত হতো না বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সর্বশেষ..