কোম্পানি সংবাদ

বিও অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে কপারটেকের আইপিও শেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লটারিতে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শেয়ার তথ্য সংরক্ষণকারী সংস্থা সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, কোম্পানির আইপিও লটারিতে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার সিডিবিএলের মাধ্যমে গত রোববার বিনিয়োগকারীদের নিজ বিও অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বরে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে দুই কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে ২০ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসির অনুমোদন নিয়ে ইতোমধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে থেকে প্রাথমিক গণ-প্রস্তাবের আবেদন গ্রহণ করছে কোম্পানিটি। চলতি বছরের ৩১ মার্চ থেকে শুরু হয় এ কোম্পানির আইপিও আবেদন। যা চলে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। আর এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখ কোম্পানির আইপিও লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। আইপিও’র টাকা থেকে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ছয় কোটি ৫০ লাখ টাকা, প্লান্ট এবং যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপনে ছয় কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ভবন ও সিভিল ওয়ার্ক খাতে খরচ হবে পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আইপিও ফান্ড পাওয়ার ১২ মাসের মধ্যে প্রজেক্টের কাজ শেষ করা হবে। আর আইপিও বাবদ খরচ হিসাব করা হয়েছে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, ৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত বছরের সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস রিভ্যালুয়েশন ছাড়া) দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ছয় পয়সা (কোম্পানিটি কোনো সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করেনি) এবং শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে দুই টাকা ৬০ পয়সা। কোম্পানিটি মূলত কপার বার, স্ট্রিপ, ওয়্যার ও টিউব উৎপাদন করে। বাংলাদেশের বৃহৎ কপার বার, কপার রড, কপার স্ট্রিপ, কপার তার, কপার পাইপ এবং কপার টিউব প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়, যা পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ৩১ মে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়।
কোম্পানিটি ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। কোম্পানির উৎপাদিত পণ্যসমূহ বিদ্যুৎ প্লান্ট, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, এসি ও ফ্রিজ তৈরিতে, ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানায় ও বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতিতে ব্যবহƒত হয়।
এদিকে সর্বশেষ ২০১৮ সালের অর্থবছর শেষে কোম্পানির আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি ৬৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৫ সালে কোম্পানির আয় আগের বছরের ৪১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে তিন কোটি ৯৮ লাখ টাকা হয়। পরের বছর তা বেড়ে হয় আট কোটি ৭০ লাখ। ২০১৭ সালের আর্থিক বছর শেষে এই আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০১৮ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৫২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। একইভাবে পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা বেড়েছে ব্যাপকহারে। ২০১৪ সালে কোম্পানিটি ৩২ লাখ টাকা লোকসানে ছিল। সর্বশেষ বছরে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা দাঁড়িয়েছে চার কোটি ১০ লাখ টাকা।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ছিল দুই দশমিক পাঁচ কোটি টাকা এবং শেয়ার মানি হিসাবে জমা ছিল ৯ দশমিক ৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ শেয়ার মানি হিসাবকে ইকুইটি হিসেবে গণ্য করা হলে মোট শেয়ারহোল্ডার ইকুইটি ছিল ১২ কোটি টাকা। একইভাবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ছিল ৯ দশমিক পাঁচ কোটি এবং শেয়ার মানি হিসাবে জমা ছিল চার দশমিক পাঁচ কোটি টাকা অর্থাৎ মোট শেয়ারহোল্ডার ইকুইটি ছিল ১৪ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কোম্পানি বিএসইসির অনুমতি সাপেক্ষে পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকায় উন্নীত করে। অতএব গত দুই বছরে কোম্পানি (২০১৫-১৬ থেকে ২০১৭-১৮) তিন দশমিক ৩৩ (১২ কোটি থেকে ৪০ কোটি টাকা) গুণ পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি করেছে।

সর্বশেষ..