এসএমই

বিজনেস আইডিয়া:ট্রাভেল ও ট্যুরিজম

নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঠিক করতে হবে কী দিয়ে শুরু করবেন। এজন্য দরকার অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন ব্যবসা। এ ধরনের উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে শেয়ার বিজের সাপ্তাহিক আয়োজন

অল্প পুঁজি দিয়ে ব্যবসা করতে চাইলে ট্রাভেল ব্যবসা হতে পারে অন্যতম সহজ ও আনন্দময় উপার্জনের মাধ্যম। অনেকে সরকারি ও বেসরকারি চাকরির পেছনে সময় ব্যয় করেছেন। কিন্তু চাকরি নামের সোনার হরিণটি অধরা রয়ে গেছে তাদের জীবনে। এমন মানুষদেরই বলছি, আপনারা ট্যুরিজমের ব্যবসা শুরু করে দিন। অন্য ব্যবসার তুলনায় এ ব্যবসার ধরন ভিন্ন রকম। এ ব্যবসায় যেমন নিজেও দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন, তেমনি ভালো সেবা দিতে পারলে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।
বাঙালিরা যেমন ভোজনরসিক, তেমনি ভ্রমণপিপাসুও বটে। তাই হাতে সময় পেলে অনেকে ভ্রমণে যেতে চান। ভ্রমণ করবেন ঠিকই কিন্তু কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন, থাকবেন কোথায়। যেখানে যাবেন সেখানকার পরিবেশ কেমন, খরচ হবে কেমন প্রভৃতি চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। তখন তারা ট্রাভেল এজেন্ট খুঁজেন। এ সময় তাদের সহযোগিতা করে ট্রাভেল এজেন্টরা লাভের মুখ দেখেন।

প্রয়োজন
এ ব্যবসার শুরুতে মূলত বিনিয়োগ করার প্রয়োজন পড়ে না। এজন্য প্রয়োজন শ্রম, অধ্যবসায় আর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা। যেহেতু টিকিট কাটা, হোটেল বুকিং, বেড়ানোর পরিকল্পনা তৈরি প্রভৃতি ঝামেলা এড়াতে ট্রাভেল এজেন্টদের ওপর ভরসা করা হয়, সেহেতু এ বিষয়গুলো জেনে নিতে পারলে এ ব্যবসায় সফলতা আসবে। প্রথমবার তাদের সন্তুষ্ট করতে পারলে তারা ভবিষ্যতে যে কোনো ভ্রমণে আপনার ওপর নির্ভর করবে। এতে আপনি লাভবান হতে থাকবেন।

যেভাবে শুরু করবেন
ব্যবসা শুরু করতে প্রথমে ঠিক করে নিতে হবে বেড়ানোর জায়গা। কোন জায়গায় নিয়ে যেতে চান, কোন ধরনের হোটেলে রাখবেন পরিকল্পনা করে নিতে হবে। বিভিন্ন সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থার মানুষের চাহিদা ভিন্ন হয়ে থাকে। আপনি মূলত কাদের পরিষেবা দিতে চান সেই বিষয়টাও আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে। যেহেতু এ ব্যবসায় বিনা বিনিয়োগে আয় করা সম্ভব, সেহেতু নিজ উদ্যোগে নতুন জায়গা খুঁজে বের করতে পারলে ব্যবসা বাড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকবে। এসব জায়গায় আগে থেকে হোটেলের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করে রাখতে হবে। পাশাপাশি সেখানে খাওয়ানোর ব্যবস্থা কেমন সে বিষয় নিয়েও ভেবে রাখুন। এসব বিষয় ঠিক করে যাত্রা শুরু করতে পারেন।

যোগ্যতা
এ ব্যবসায় অবশ্যই শিক্ষিত হতে হবে। ইংরেজি ও বাংলাÑউভয় ভাষায় দক্ষ হতে হবে। বিভিন্ন দেশের ভিসা, ভ্রমণ-সংক্রান্ত নীতিমালা সম্পর্কে জানতে হবে। কোন জায়গাগুলো বেশি আনন্দদায়ক ও অপার সৌন্দর্যে ভরা সেসব জায়গা সম্পর্কে জ্ঞান নিতে হবে। প্রয়োজনে জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পটগুলো তালিকা করে সঙ্গে রাখতে হবে। কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে। গ্রাহকদের সময়মতো সেবা দিতে হবে।

কামরুন নাহার ঊষা

সর্বশেষ..