এসএমই

বিজনেস আইডিয়া: ইউটিউবিং

নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঠিক করতে হবে কী দিয়ে শুরু করবেন। এজন্য দরকার অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন ব্যবসা। এ ধরনের উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে শেয়ার বিজের সাপ্তাহিক আয়োজন

ইউটিউব সম্পর্কে কে না জানে? আজকাল স্মার্টফোন দিয়ে প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে ইউটিউবে ভিজিট করা যায়। কাজের পাশাপাশি সময় কাটানো যায়। এ ইউটিউবকেই যে একটি যথাযথ আয়ের উৎস হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে, তা নিয়ে কতজন ভাবেন? হ্যাঁ, হাতে পুঁজি নিয়ে এ ব্যবসায় উপযুক্তভাবে নামতে পারলে এখান থেকেই সফলতার মুখ দেখা সম্ভব। শিক্ষিত বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়ার একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম হতে পারে এ মাধ্যমটি।
ইউটিউবে মূলত বিভিন্ন ধরনের ভিডিও দেওয়া থাকে। এগুলো বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। চ্যানেলের এ নিয়ন্ত্রণকে ইউটিউবিং বলা হয়। অর্থাৎ যে কেউ ইউটিউবের প্ল্যাটফর্মে একটি চ্যানেল খুলে সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিডিও আপলোড করতে পারেন। যে ভিডিওগুলো সাধারণ দর্শক ভিউ করবেন ও নির্দিষ্টসংখ্যক ভিউ হওয়ার পরই সেই ভিডিওগুলোতে কিছু কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপন যোগ করা যাবে, যেখান থেকেই মূলত সেই চ্যানেলের নিয়ন্ত্রক আয় করতে পারবেন। এর মানে, একটি ভিডিওতে যখন কোনো বিজ্ঞাপন যুক্ত করা হবে, তখন সেই ভিডিওটি ভিউ হওয়ার সঙ্গে বিজ্ঞাপনটিও দর্শক দেখতে পাবেন। ফলে বিজ্ঞাপনের মালিক ইউটিউবের দ্বারা সেই চ্যানেল মালিককে প্রতি ভিউ’র জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেবেন। এভাবে ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করা যায়।

যা প্রয়োজন
হাতের কাছে সামান্য দুটি জিনিস থাকলেই ইউটিউবিং শুরু করা যায়। এগুলো হলো, একটি ক্যামেরা ও ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য একটি ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন। পুরো কাজটির জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন নেই। ঘরে বসেই কাজটি করা যেতে পারে। এ ব্যবসায় কিছু অভিজ্ঞতা থাকলে শুরু করা যায়। এগুলো অর্জন করতে পারলে খুব সহজে ইউটিউবকে আয়ের একটি ভালো উৎস বানানো সম্ভব।

যেভাবে শুরু করবেন
প্রথমে ইউটিউবে একটি চ্যানেল খুলতে হবে। এখানে ভিডিওগুলো আপলোড করা হবে। তারপর একটি বিষয় ঠিক করতে হবে, যার ওপর ভিডিও তৈরি করা যেতে পারে। হতে পারে তা কোনো শিক্ষণীয় বিষয় বা মজাদার কোনো ইভেন্ট। এরপর নিজে কিংবা বন্ধুরা মিলে ওই বিষয়টির ওপর ভিডিও ধারণ করতে হবে। নিজেরাই কোনো ঘটনা তৈরি করে ভিডিও করে নিতে পারেন। ভিডিও হয়ে গেলে সেটি প্রয়োজন অনুসারে ঘরে বসে এডিটিং করে ইউটিউবের চ্যানেলটিতে আপলোড করতে হবে। এরপর শুরু হবে ভিডিওর ভিউ বাড়ানোর কাজ। এ কাজটির জন্য সব থেকে উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম হলো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক। এখানে বিভিন্ন গ্রুপ কিংবা পেজের মাধ্যমে নিজের ইউটিউব চ্যানেলটির প্রচার চালাতে পারেন। দর্শকদের ভিউ বাড়ার সঙ্গে চ্যানেলের সাবস্ক্রিপশনও বাড়াতে হবে। এক সময় যখন সেই ভিডিওটিতে নির্দিষ্টসংখ্যক ভিউ হয়ে যাবে, তখন সেখানে কিছু কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপন যোগ করা যাবে। তারপর থেকেই প্রতি ভিউ’র জন্য সেই বিজ্ঞাপনদাতা চ্যানেলের মালিককে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেবেন। বোঝাই যাচ্ছে, ভিউ যত বাড়তে থাকবে, অ্যাকাউন্টে ততই অর্থ জমা হতে থাকবে। এজন্য চ্যানেল মালিককে অনলাইনে থাকারও কোনো প্রয়োজন পড়বে না।
ইউটিউবিং ব্যবসায় সাফল্য পেতে হলে অবশ্যই ধৈর্য ধারণ করতে হবে। কারণ, কোনো চ্যানেল সফল হতে বেশি সময় নেয়, আবার কোনোটি খুব দ্রুত সফল হয়। এটি নির্ভর করে আপনি দর্শকের কতটা মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারছেন তার ওপর। তাই ক্রমাগত কাজ করে যেতে হবে। হতাশ হওয়া যাবে না।

মাহবুবুল আলম শাকিব

সর্বশেষ..