বিজনেস আইডিয়া: গার্মেন্ট অ্যাকসেসরিজ সরবরাহ

 

নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঠিক করতে হবে কী দিয়ে শুরু করবেন। এজন্য দরকার অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায়Ñএমন ব্যবসা। এ ধরনের উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে শেয়ার বিজের সাপ্তাহিক আয়োজন

 

বৈদেশির মুদ্রা আয়ে বিরাট ভূমিকা পালন করছে গার্মেন্ট শিল্প। এ শিল্পের পরিধি দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। এখানে কর্মসংস্থানের নানামুখী ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। প্রতিদিন গার্মেন্টের বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরিতে অনেক অ্যাকসেসরিজের প্রয়োজন হয়। গার্মেন্টের চাহিদানুযায়ী এসব পণ্য সরবরাহ করে ভালো আয় করা সম্ভব। স্বল্প মূলধন নিয়ে আপনিও এ ব্যবসা শুরু করতে পারেন। যারা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বলা হয় ‘সাপ্লায়ার’ বা ‘ট্রেডার’।

 

বাজার সম্ভাবনা

বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের সংখ্যা চার হাজারের মতো। প্রতি বছর নতুন কারখানা নির্মিত হচ্ছে। এসব কারখানায় প্রচুর চাহিদা রয়েছে নানা ধরনের পণ্যের। এমনকি বিদেশেও অনেক চাহিদা রয়েছেÑবিশেষ করে চীন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামে।

 

নাম ও ট্রেড লাইসেন্স

প্রথমে আপনার প্রতিষ্ঠানের একটি ভালো নাম-ঠিক করতে হবে। ব্যবসার বৈধতার জন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ও অফিসের ঠিকানা দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে। অফিসের জন্য একটি সুন্দর জায়গা নির্বাচন করতে হবে।

 

পণ্য

মেইন লেভেল, কেয়ার লেভেল, হ্যান্ডট্যাগ, কার্টন, পলি, গ্রামটেপ, বোতাম, জিপার, কলার ইনসার্ট, ইন্টার লাইনিং, টুইল টেপ, হ্যাংগার, ইলাস্টিক, সুতার রিল, বাটার ফ্লাই, করোগেটেড কার্টন, ব্ল্যাক বোর্ড, নেক বোর্ড, সুইং থ্রেড, প্রাইস ট্যাগ, ফটো বোর্ড, গামটেপ, টিস্যু, টুইল টেপ, এমব্রয়ডারি, প্যাডিং, কুইলটিং প্রভৃতি।

 

কোথায় পাবেন

ঢাকার চকবাজার, সদরঘাট, বংশাল প্রভৃতি জায়গা থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এসব পণ্যের ৯০ শতাংশের বেশি কাঁচামাল চীন থেকে আমদানি করা হয়। যারা কারখানা করতে চান, তাদের চীন থেকে আমদানি করতে হবে কিংবা যারা আমদানি করে তাদের কাছ থেকে পাইকারি কিনতে হবে।

 

পুঁজি

পাঁচ থেকে ১০ লাখ নিয়ে শুরু করতে পারেন। পণ্য নিজে উৎপাদন করতে চাইলে মেশিন কিনতে হবে। সে ক্ষেত্রে পুঁজির পরিমাণটা বাড়াতে হবে।

সরবরাহ ও লাভ

পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে ভালো উপায় হলো গার্মেন্টসের সঙ্গে চুক্তি করা। সেটা সম্ভব না হলে বায়িং হাউজের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ করা যেতে পারে। গার্মেন্টসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে লাভ বেশি হয়। বায়িং হাউজের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ করা হলে লাভের পরিমাণটা তুলনামূলক কমে যায়। এক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ হারে লাভ থাকে। এই খাতের লোকজনের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রাখা জরুরি। ব্যবসাটা নির্ভর করে যোগাযোগ দক্ষতার ওপর। যার যোগাযোগ যত ভালো তার জন্য ব্যবসা করাটা তত সহজ ও লাভজনক।

 

অভিজ্ঞতা

ব্যবসা শুরুর আগে এর ওপর বাস্তবিক জ্ঞান প্রয়োজন। যারা ব্যবসাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চান অবশ্যই কিছুদিন কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিন। এটা হতে পারে কারখানায় চাকরি করা। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ছাড়া এ ব্যবসায় উন্নতি করা দুরূহ। তাই সঠিক পরিকল্পনা ও সুষ্ঠু ধারণা নিতে না পারলে ব্যবসায় সফল হওয়া সম্ভব।

 

শিপন আহমেদ