এসএমই

বিজনেস আইডিয়া: নির্মাণ সামগ্রী

নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঠিক করতে হবে, কী দিয়ে শুরু করবেন। এজন্য দরকার অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন ব্যবসা। এ ধরনের উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে শেয়ার বিজের সাপ্তাহিক আয়োজন

অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে বাসস্থানের চেহারাটাও পাল্টে গেছে। গ্রাম বা শহর সবখানেই বাড়ি বানানোর ক্ষেত্রে মাটি ও টিনের স্থানে ইট, লোহা ও কাঠ দিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। সে সঙ্গে মানুষ তার বাসস্থানকে সুরক্ষিত, দীর্ঘস্থায়ী ও দৃষ্টিনন্দন করার চেষ্টা করে থাকেন।
ইট, সিমেন্ট, বালি বাড়িঘর তৈরির প্রধান উপাদান। পাশাপাশি আরও কিছু দ্রব্যের প্রয়োজন পড়ে। রেলিং পোস্ট, ভেন্টিলেটর, ছোট পিলার প্রভৃতি। এ সামগ্রীগুলো তৈরির ব্যবসাকেই নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসা বলে। প্রতিনিয়ত ইটের ঘর তৈরির জন্য ভেন্টিলেটর, রেলিং পোস্ট, রিং, সøাব, স্যানিটেশন প্রভৃতি সামগ্রীর চাহিদা বেড়ে গেছে। আপনিও এ সামগ্রীর ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। নিজের লাভের পাশাপাশি অন্য মানুষের জন্যও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন।

সুবিধা

তুলনামূলক খরচ কম

স্থায়ী উপকরণগুলো একবার কিনলে অনেকদিন কাজ করা যায়। ব্যবসার শুরুতে এ খরচটি করতে পারলে পরবর্তীকালে শুধু কাঁচামাল কিনে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া যায়। এর উপকরণ সহজে পাওয়া যায়

পণ্যগুলো সহজে নষ্ট হয় না

এটির উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ

এটি একটি লাভজনক ব্যবসা কারণ দেশের সব খানে এর চাহিদা রয়েছে

সাবধানতা

রিং ও স্লাব তৈরির জায়গাটি যে কোনোভাবে নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে

মিশ্রণ তৈরির সময় সব উপাদানের পরিমাণ ঠিক থাকতে হবে। তা না হলে পণ্যের মান ভালো হবে না

বাজার সম্ভাবনা
এখন অনেকেই মাটি, টিন প্রভৃতির বদলে ইট দিয়ে ঘর তৈরি করছে। ইটের ঘর তৈরির জন্য ভেন্টিলেটর, রেলিং পোস্ট, রিং, সøাব প্রভৃতি সামগ্রী প্রয়োজন হয়। গ্রাম বা শহরে সব জায়গাতেই নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা রয়েছে। উৎপাদিত পণ্য খুচরা বা পাইকারি দরে বিক্রি করা যায়। এ ব্যবসার অন্যতম ক্রেতা হচ্ছে-

ব্যক্তিগতভাবে যারা দালান নির্মাণ করেন

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী

বিভিন্ন অফিসের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

বিভিন্ন এনজিও যারা স্যানিটেশন প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করে

উপকরণ
স্থায়ী যন্ত্রপাতি ভেন্টিলেটর ডাইস, রেলিং পোস্ট ফ্রেম, পিলার ফ্রেম, রিং ফ্রেম, সøাব ফ্রেম, স্টিল কনি, শাবল, মগ, বেলচা, কোদাল, হাত কন্নি, কড়াই, বালতি, প্লাস, করাত, হাতুড়ি, হামার, রেলপাতি, ছেনি প্রভৃতি।
কাঁচামালÑ বালি, সিমেন্ট, রড,
সুরকি প্রভৃতি।

পুঁজি
৫ থেকে ৮ লাখ টাকা দিয়ে শুরু
করতে পারেন।

প্রশিক্ষণ
নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসা শুরুর জন্য রাজধানীর মিরপুরে ‘বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ তিন মাসমেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্সের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া অভিজ্ঞ কারও কাছে থেকে তিন থেকে ছয় মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে এ কাজ শুরু করতে পারেন।

শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..