নেট ও টিস্যু ব্যাগ

বিজনেস আইডিয়া

???????????????????????????????

নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঠিক করতে হবে, কী দিয়ে শুরু করবেন। এজন্য দরকার অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন ব্যবসা। এ ধরনের উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে শেয়ার বিজের সাপ্তাহিক আয়োজন

বিপণিবিতান, হাটবাজার ও ছোটখাটো দোকানে সারা বছর নেট ও টিস্যু ব্যাগের প্রয়োজন হয়। রাজধানীসহ সারা দেশের কেনাকাটায় জনপ্রিয় এ ধরনের ব্যাগ। এসব ব্যাগের চাহিদা সব সময়ই থাকে। ব্যাগ তৈরিতে বেশি পুঁজি ও লোকবলের দরকার হয় না। ছোট্ট পরিসরেই শুরু করা যায় নেট কিংবা টিস্যু ব্যাগ তৈরির ব্যবসা। তাই স্বনির্ভর কর্মসংস্থান ও কম পুঁজির উপায় হিসেবে আপনিও এ ব্যবসা শুরু করতে পারেন। বিভিন্ন উৎসবÑযেমন ঈদ মৌসুমে এসব ব্যাগের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়।

বাজার সম্ভাবনা
সব জায়গায় নেট ও টিস্যু ব্যাগ ব্যবহƒত হচ্ছে। চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন শপিংমল, বিপণিবিতান, বাজার, হোটেল ও মুদি দোকানে। এ ব্যাগের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী টিস্যু ব্যাগ অর্ডার দিয়ে তৈরি করিয়ে থাকে। এমন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। তাদের অর্ডার অনুযায়ী ব্যাগ তৈরি করে আয় করা সম্ভব। এছাড়া মিষ্টি ব্যবসায়ী, কাপড় বিক্রেতা, কনফেকশনারি ও অন্য ব্যবসায়ীরা তাদের প্রয়োজনমতো এ ব্যাগ কিনে থাকেন।

সুবিধা

তুলনামূলক খরচ কম

অল্প জায়গায় করা যায়

পরিবারের সবাই মিলে ব্যবসাটি চালানো যায়

উপকরণগুলো সহজেই পাওয়া যায়

কম সময়ে বেশি ব্যাগ তৈরি করা যায়

দুই থেকে তিনজন কারিগর দিয়ে কাজ চালানো যায়

নামমাত্র বিদ্যুৎ খরচ হয়

প্রতি ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১২০ পিস তৈরি করা যায়

পাইকার বা খুচরা দোকানদারদের কাছে বিক্রি করা যায়

শহর কিংবা গ্রাম সব জায়গায় এ ব্যবসা করা যায়

উপকরণ
নেট ব্যাগ তৈরির প্রধান উপাদান নেট কাপড়ের থান, সুতা, ইলেকট্রিক সেলাই মেশিন প্রভৃতি। টিস্যু ব্যাগের উপকরণ পলি প্রোপাইলিন নামে এক ধরনের কাপড়। এসব উপকরণ গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া, চকবাজার, ইসলামপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়।

লোকবল
নেট ও টিস্যু ব্যাগ তৈরিতে তিন ধরনের কর্মচারী দরকার। সুইং অপারেটর ব্যাগ সেলাই, কাটিং মাস্টার ও বানানো ব্যাগ বান্ডিল হেলপার। উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশি হলে সাব-কন্ট্রাক্টে ব্যাগ তৈরি করা যায়।

পুঁজি
৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা দিয়ে শুরু করতে পারেন। তবে জায়গা অনুযায়ী টাকার পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

লাভ
চার থেকে পাঁচ সাইজের ব্যাগ বানানো যায়। এক থান কাপড় থেকে ১২ বাই ১৩ ইঞ্চি আয়তনের ব্যাগ হয় ৬০০টি, ১৫ বাই ১৬ ইঞ্চির ৪৫০টি, ১৫ বাই ১৮ ইঞ্চির ৪০০টি, ১৫ বাই ২০ ইঞ্চির ৩৫০টি ও ২০ বাই ২০ ইঞ্চির ২৫০টি। এ ধরনের ১০০টি ব্যাগের একটি বান্ডিল বিক্রি করা যায় ১০০ থেকে ২৫০ টাকায় এবং টিস্যু ব্যাগ নেট বা জালি ব্যাগের চেয়ে দাম তুলনামূলক বেশি। ব্যবসায় উন্নতির জন্য যোগাযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যোগাযোগ ভালো হলে এ ব্যবসায় দ্রুত উন্নতি করা যাবে।

প্রশিক্ষণ
বিশেষ যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। নেট ও টিস্যু ব্যাগ তৈরি করা শেখার কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। তবে অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যাগ তৈরির নিয়ম হাতে-কলমে শিখে নিতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ বিভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। ধৈর্যশীল হলে এ ব্যবসায় টিকে থাকতে পারবেন।

শিপন আহমেদ