বিজনেস আইডিয়া: ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে ফাস্টফুড

নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঠিক করতে হবে, কী দিয়ে শুরু করবেন। এজন্য দরকার অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন ব্যবসা। এ ধরনের উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে শেয়ার বিজের সাপ্তাহিক আয়োজন

‘ফুডকার্ট’ হচ্ছে খাবারের চলন্ত গাড়ি। গাড়ির ভেতরে রয়েছে খাবার গরম রাখার চুলা। এর ওপর ট্রে বসিয়ে খাবার সাজিয়ে প্লাস্টিকের শিট দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়। ক্রেতা অর্ডার দিলে গরম খাবার সরবরাহ করা হয় প্যাকেটে। পাশে দাঁড়িয়ে চটজলদি খাবার খেয়ে নেওয়া অথবা বাসায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তরুণদের কাছে এটি এখন নতুন আকর্ষণ। এখানে ভালো মানের খাবার পাওয়া যায়। দাম তুলনামূলক কম। তাই সবার আগ্রহটা আরও বেশি। ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ খাবারের গাড়িতে ফুডকার্ট ব্যবসা আপনিও শুরু করতে পারেন।

বাজার চাহিদা
ফুচকা আর চটপটি বিক্রির রেওয়াজ অনেক দিন থেকে। এর সঙ্গে নানা খাবার মিলছে ফুডকার্টে। সহজে রাস্তায় মিলছে মানসম্মত বিভিন্ন ধরনের খাবার। এ ধরনের খাবারের প্রচলন ও জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ফুডকার্টে সব বয়সের মানুষ খেতে এলেও এর প্রধান ভোজনরসিক তরুণরা। এছাড়া অনেক কর্মজীবী নারী ও পুরুষ প্রতিদিন অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে পরিবারের জন্য নিয়ে যায়।

মজার যত খাবার
পপকর্ন, বিরিয়ানি, বার্গার, স্যান্ডউইচ, গরুর চাপ, তেহারি, পরাটার সঙ্গে গরু বা মুরগির মাংসের ভুনা, কাবাব রোল, মোরগ পোলাও, চিকেন চপ, চিকেন কাঠি কাবাব, চিকেন সমুচা, পেঁয়াজু, সবজি পাকোড়া প্রভৃতি পাওয়া যায়। বিশেষ কিছু বার্গারের মধ্যে আছে বিফ তেরিয়াকি চিজ বার্গার, মেক্সিকান বার্গার, সট মাশরুম চিজ বার্গার, বারবিকিউ চিজ বার্গার, স্পেশাল চিজ বার্গার প্রভৃতি।

সরঞ্জামে সাবধান
ফুডকার্টে কী ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কারণ নিম্নমানেরর সরঞ্জাম ব্যবহারে নষ্ট হতে পারে খাবারের মান ও ফুডকার্টের সুনাম। তাই শুরু থেকে চেষ্টা করুন সরঞ্জাম যেন উন্নতমানের হয়। নিম্নমানের সরঞ্জাম থেকে সাবধান থাকুন।

সব সময় নতুন কিছু
নিজের কার্টটিকে আলাদা করার উপায় হলো স্বতন্ত্রতা। সে সঙ্গে কার্টের নকশায়ও বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করতে হবে। শুধু রংচঙে আকর্ষণীয় হলে হবে না। তা হতে হবে খোলামেলা ও ছিমছাম। এতে যেন ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যোগসূত্র ঘটে। ভিন্নতা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন, মাথায় রাখবেন সেটা যেন আপনাকে অন্যসব কার্ট থেকে আলাদা করতে পারে। গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে মেন্যু তৈরির চেষ্টা করতে হবে। প্রতিনিয়ত খাবারের মেন্যু নিয়ে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করতে হবে। নতুন মসলা, নতুন রেসিপি, নতুন স্বাদ ও নতুনত্বের ছোঁয়া রাখুন খাবারে। এছাড়া পরিবেশনের ধরনে আনতে হবে বৈচিত্র্য।

যেখানে বিক্রি করা যাবে
মিরপুর, ধানমন্ডি, বেইলি রোড, গুলশান, লালমাটিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বনানী, তালতলাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা যায়।

ফেসবুক পেইজ
আপনার ফুডকার্টের নিজস্ব ফেসবুক পেইজ তৈরি করতে পারেন যেন ফেসবুকে কার্টের নাম লিখে অনুসন্ধান করলেই পাওয়া যায় খাবারের সব তথ্য।

শিপন আহমেদ