বিজনেস আইডিয়া

নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঠিক করতে হবে কী দিয়ে শুরু করবেন। এজন্য দরকার অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায়Ñএমন ব্যবসা। এ ধরনের উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে শেয়ার বিজের সাপ্তাহিক আয়োজন
ডিলারশিপ
ব্যবসা-বাণিজ্যে ডিলারশিপ হলো একটি নির্দিষ্ট এরিয়া কাভারেজ করা। অর্থাৎ পণ্য বিপণন থেকে শুরু করে ভোক্তাকে যে কোনো সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে সেই এলাকায় সেবা দেন ডিলার। এ ধরনের ব্যবসায় সম্পৃক্ত হতে পারেন আপনিও।
যে পণ্য নিয়ে কাজ করতে চান, সেটার প্রসার কতটুকু, মানুষের আগ্রহ কেমন, পণ্যের বিপণন কেমন হবে তা বিবেচনায় রাখুন। নতুন একটি পণ্য বাজারে এলে মানুষ যাচাইয়ের জন্য তা সহজে গ্রহণ করতে পারে। বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে আপনি যে কোনো কোম্পানির ডিলার হতে পারেন। প্রতিনিয়ত বাড়ছে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় অসংখ্য কোম্পানি। ফলে দিন দিন বাড়ছে ডিলারশিপ ব্যবসা। এ ব্যবসার পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে ব্যবসার অনেক সুযোগ ও কর্মসংস্থান।
সুবিধা
খরচ ও জামানত তুলনামূলক কম
নির্দিষ্ট এলাকায় পণ্যগুলো কেনাবেচা করতে হয়
জনবল কম লাগে
কোনো কারণে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হলে কিংবা বিক্রি করতে না পারলে অবিক্রীত পণ্য কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী ফেরত নেওয়া হয়
কোম্পানির পরিবেশকের বিক্রি তদারকি করার জন্য এরিয়া সেলস এক্সিকিউটিভসহ পণ্যসামগ্রীর অর্ডারের জন্য এসআর দেওয়া হয়
চাহিদা
বিভিন্ন কোম্পানির প্লাস্টিক, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস ও ইলেট্রিক্যাল পণ্য, সিমেন্ট, অটোমোবাইল, গ্যাস সিলিন্ডার, বিভিন্ন ধরনের খাদ্যজাত দ্রব্য, দৈনন্দিন ব্যবহার করা পণ্যসহ অফিস, কৃষি প্রভৃতি পণ্য রয়েছে। এসব পণ্যের চাহিদা সব সময় থাকে। অবস্থানগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে আপনি এর যেকোনো একটি বা একাধিক পণ্যের ডিলার হতে পারেন।
জামানত
সব প্রতিষ্ঠান তাদের ডিলার কিংবা প্রতিনিধি নিয়োগের বেলায় আলাদা শর্ত দেয়। প্রতিষ্ঠানভেদে জামানত ভিন্ন হয়ে থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠান জামানত চায় না। পুঁজির বেলায়ও একই নিয়মÑপণ্য ও স্থানভেদে তারতম্য ঘটে।
যোগাযোগ
এই ব্যবসার জন্য যে কোনো কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
লাভ
মূল লাভ হচ্ছে কমিশনের ওপর। কোম্পানিভেদে কমিশন কম-বেশি হয়। প্রতিমাসে টার্গেটের চেয়ে বেশি পণ্য কেনাবেচা করতে পারলে বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার দেওয়া হয়।
করণীয়
ডিস্টিবিউটরের কাছ থেকে সঠিকভাবে পণ্য বুঝে নেওয়া
নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি ও ক্যাশ মেমো দেওয়া
হিসাব ঠিক রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের নথি সংরক্ষণ করে রাখা
পণ্যের গুণগত মান, পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ে কোথায় অভিযোগ করতে হবে তার বিশদ বিবরণ বুঝে নেওয়া
প্রতিমাসে কত টাকা পাওয়া গেছে তার হিসাব রাখা
প্রতিদিনের মজুত দ্রব্যের পরিমাণ বুঝতে হবে
দোকান খোলা ও বন্ধের সময় নির্ধারণ করতে হবে
সময়মতো জিনিসপত্রের চাহিদাপত্র এরিয়া বিভাগের পরিদর্শকের কাছে পাঠাতে হবে
  শিপন আহমেদ