‘বিজনেস লিডার গড়তে কাজ করছে আইসিএমএবি’

মোহাম্মদ সেলিম এফসিএমএ দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) প্রেসিডেন্ট এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) সিনিয়র ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর শেষে যুক্তরাজ্য থেকে ফাইন্যান্সে এমবিএ সম্পন্ন করেন। তিনি চার্টার্ড পাবলিক ফাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সিপিএফএ) ও আইসিএমএবির সম্মানিত ফেলো। সম্প্রতি শেয়ার বিজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার ক্যারিয়ার ও আইসিএমএবির নানা দিক নিয়ে তিনি কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসানুজ্জামান পিয়াস

শেয়ার বিজ: আপনার ক্যারিয়ারের পেছনের গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই…

মোহাম্মদ সেলিম এফসিএমএ: উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেই আইসিএমএবিতে ভর্তি হই। পাশাপাশি একাডেমিক পড়ালেখা চালিয়ে যাই। ১৯৮৭ সালে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করি। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ও আইসিএমএবি’র শেষ লেভেলের শিক্ষার্থী ছিলাম। এরপর ১৯৯৪ সালে পড়ালেখা করতে যুক্তরাজ্য গমন করি। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হাল থেকে ফাইন্যান্সে এমবিএ সম্পন্ন করি। ১৯৯৭ সালে দেশে এসে আবার একই কোম্পানিতে যোগ দিই। ওইখানে কিছুদিন কাজ করার পর পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডে যোগ দিই ম্যানেজার ফাইন্যান্স ও কোম্পানি সচিব হিসেবে। ওইখানে বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতি পেয়ে নানা দায়িত্ব পালন করি। সর্বশেষ জেনারেল ম্যানেজার ফাইন্যান্স ও কিছুদিন ডিরেক্টর ফাইন্যান্স হিসেবেও দায়িত্ব পালন করি। তারপর ২০১৬ সাল থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অধীন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) সিনিয়র ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

শেয়ার বিজ: পেশা হিসেবে সিএমএ’কে কেন বেছে নিয়েছিলেন?

মোহাম্মদ সেলিম: সিএমএ একটি দূরদর্শিতাসম্পন্ন পেশা। সিএমএ পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ থাকে। এখানে গতানুগতিক অ্যাকাউন্টিং শেখানো হয় না, বরং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একজন দক্ষ প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে গড়ে তোলা হয়। তাছাড়া ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং প্রতিষ্ঠানের অতীতের ডেটা নিয়ে কাজ করে কিন্তু ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং বর্তমান ও ভবিষতের চিন্তা করে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী এ পেশার চাহিদাও ব্যাপক। একইসঙ্গে সিএমএ পেশা সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং। আর চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি বলেই এ পেশাকে বেছে নেওয়া।

শেয়ার বিজ: আইসিএমএবি’র মুখ্য উদ্দেশ্য কী?

মোহাম্মদ সেলিম: বাংলাদেশে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং পেশার নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন করা এবং কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিংয়ে সর্বোচ্চ পেশাগত ডিগ্রি প্রদান করা আইসিএমএবি’র কাজ। এছাড়া আইসিএমএবি’র অন্যান্য লক্ষ্য হচ্ছে সিএমএ শিক্ষার্থীদের কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং-সম্পর্কিত বিশ্বমানের প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করা। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সিএমএ পেশাজীবীদের শিক্ষা, জ্ঞান ও কর্মদক্ষতা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মানদণ্ড উন্নয়ন, গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহায়তা করা। বাংলাদেশ তথা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কস্ট অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং স্ট্যান্ডার্ডস প্রণয়ন, গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা। কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী সংবিধিবদ্ধ কস্ট অডিট সম্পাদন করা। সময়ের প্রয়োজনে এ পেশার উন্নয়নের সঙ্গে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিংয়ের ক্ষেত্রে গবেষণা করা।

শেয়ার বিজ: আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনে আইসিএমএবি’র ভূমিকা কী?

মোহাম্মদ সেলিম: আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনে আইসিএমএবি তথা এর সদস্যদের ভূমিকা রয়েছে। করপোরেট গভর্ন্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্বব্যাপী অ্যাকাউন্টিং পেশাকে দেখভাল করে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (আইফ্যাক)। প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য অ্যাকাউন্টিং শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের উন্নয়ন, উপযোগী ও বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি অডিটিং অ্যান্ড অ্যাসুরেন্স, নৈতিকতার উৎকর্ষ সাধন ও বাস্তবায়ন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঠিক চর্চা নিশ্চিত করা। বিশ্বের প্রায় ১২০টির বেশি দেশের ১৫৫টি পেশাগত ইনস্টিটিউট এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য এবং ব্যক্তিগত সদস্যসংখ্যা প্রায় দুই দশমিক পাঁচ মিলিয়ন। আমরাও প্রতিষ্ঠানটির সদস্য। আইফ্যাকের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিংবা প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের কিছু কোড অব ইথিকস মেনে চলতে হয়। যেমন সততা ও ন্যায়পরায়ণতা, ব্যক্তিনিরপেক্ষতা, পেশাদারি সক্ষমতা, বিশ্বস্ততা ও পেশাদার আচরণ। আইএমএবি ও মেম্বার সবাইকে এই কোড অব ইথিকস মেনে চলতে হয়, যা আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

শেয়ার বিজ: অন্য প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট্যান্টদের (চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট) সঙ্গে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টদের একইসঙ্গে কাজের বিস্তৃতি কতটুকু?

মোহাম্মদ সেলিম: চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি ও কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্সি দুটাই পেশাগত ডিগ্রি। উভয়ের উদ্দেশ্য পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্ট তৈরি করা। তবে উভয়ের যেমন মিল রয়েছে, তেমনি কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। যেমন কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টরা সাধারণত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। ব্যবসায়িক নানা বিশ্লেষণে দক্ষ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের সমস্যা সমাধানে ও ভবিষতে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে এবং তার সমাধানই বা কী, সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করে। সাধারণত তারা ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিংয়ে দক্ষ, অন্যদিকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা অডিটে দক্ষ হয়। কোম্পানি আইন অনুযায়ী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা যেমন স্টেটিউটরি অডিট করে, তেমনি ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টরা কস্ট অডিট করে থাকে। এ দুই অডিটই প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই অডিটের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। স্টেটিউটরি অডিট করা হয় শেয়ারহোল্ডার কিংবা স্টেকহোল্ডারদের জন্য, অপরদিকে কস্ট অডিট করা হয় কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ম্যানেজমেন্টের উদ্দেশে, যা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। সুতরাং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের পাশাপাশি কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টদের কাজের ব্যাপক বিস্তৃতি রয়েছে।

শেয়ার বিজ: আইসিএমএবি’র মেম্বারদের বিশেষত্ব সম্পর্কে কিছু বলুন।

মোহাম্মদ সেলিম: আবারও বলতে চাই, সিএমএ মেম্বাররা গতানুগতিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট নয়, বরং বিজনেস লিডার। গতানুগতিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও বিজনেস লিডারের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। বিজনেস লিডার বলতে তিনি প্রতিষ্ঠানের ভিশনকে বাস্তবে পরিণত করে। একজন সিএমএ মেম্বার তার কর্মজীবন শুরু করতে পারে ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট কিংবা ফাইন্যান্স বা অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার হিসেবে এবং সেখান থেকেই তার মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি প্রস্ফুটিত হতে থাকে। তাকে কেবল অ্যাকাউন্টিং জানলেই হয় না, বরং তাকে যোগাযোগে দক্ষ হতে হয়; নেতৃত্বদানকারী দক্ষতা, ক্রস ফাংশনাল কাজের দক্ষতা, পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা ও কর্মক্ষেত্রে মেন্টরশিপ বা কোচের ভূমিকা পালন করতে হয়। আর গতানুগতিক অ্যাকাউন্ট্যান্টদের বাইরে বিজনেস লিডার হিসেবে মেম্বারদের এমন করে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে আইসিএমএবি।

শেয়ার বিজ: বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পরিবেশে সিএমএদের প্রভাব কতটুকু?

মোহাম্মদ সেলিম: আমাদের প্রায় এক হাজার ৪০০ মেম্বার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ মেম্বার দেশের বাইরে সেবা দিচ্ছে। কেবল মেম্বারই নয়, আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। আমাদের মেম্বারদের অনেকেই চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও), চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও), চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও), ইন্টারনাল অডিটর, ফাইন্যান্সিয়াল কন্ট্রোলার, কস্ট অডিটর, ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট ও আইটি এক্সপার্ট এবং অনেকে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনাসহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

শেয়ার বিজ: দেশের বর্তমান ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও জনসংখ্যার তুলনায় আইসিএমএবি মেম্বারদের সংখ্যা যথেষ্ট বলে মনে করেন কী?

মোহাম্মদ সেলিম: ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও জনসংখ্যার তুলনায় আইসিএমএবি মেম্বারদের সংখ্যা খুবই কম। চাহিদা অনুপাতে সিএমএ মেম্বার বাড়েনি। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং যেভাবে দেশ এগিয়ে চলেছে তাতে সিএমএ সদস্য সংখ্যাও বাড়া উচিত বলে মনে করি। আমাদের কাউন্সিল এ বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। কীভাবে সঠিক মান বজায় রেখে সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়। অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন একটা কিংবা দুটা বিষয়ের জন্য অ্যাফিলিয়েট হচ্ছে না। তাদের প্রয়োজনীয় গাইড করে, লাইব্রেরিতে টিউটরের ব্যবস্থা করে, অতিরিক্ত ক্লাস কিংবা ভালো মেন্টরের মাধ্যমে তাদের দুর্বলতা কাটানো গেলে খুব কাছাকাছি সময়ের মধ্যে সদস্যসংখ্যা বেড়ে যাবে বলে মনে করছি। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া চেষ্টা করছি কীভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা যায়। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এমন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সিএমএ প্রফেশনের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। সুতারাং সিএমএ পেশার উত্তরোত্তর উন্নয়ন, মেধাবী শিক্ষার্থী আনয়ন, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার জন্য প্রয়োজনীয় রিসোর্স ও মান বজায় রেখে সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধিতে আইসিএমএবি সচেতন রয়েছে।

শেয়ার বিজ: আইসিএমএবির সিলেবাসে পরিবর্তন এবং পুরোনো সিলেবাসের মেম্বার ও শিক্ষার্থীদের জন্য সিপিডি প্রোগ্রামের প্রভাব সম্পর্কে কিছু বলুন…

মোহাম্মদ সেলিম: সময়, বিশ্বায়ন এবং দেশের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য কয়েক বছর পরপরই সিলেবাসে পরিবর্তন আসে। এমনভাবেই দীর্ঘদিন পর ২০০৫ সালে আইসিএমএবির সিলেবাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে এই সিলেবাসটি বিশ্বমানের করা হয়েছে। এই সিলেবাসের মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা ভুবনে সঠিক সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। সিলেবাসটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেখানে স্থানীয় আইন-কানুনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত পেশা। তাই আইসিএমএবি থেকে পাস করে কেবল দেশে নয়, বাইরের দেশগুলোতে যাতে আমাদের সদস্যদের সেবা দিতে কোনো বাধার সম্মুখীন হতে না হয় সে লক্ষ্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া কেবল অ্যাকাউন্ট্যান্ট নয়, বিজনেস লিডার হওয়ার জন্য যেসব স্কিল দরকার তার সবই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে চারটি বিষয় লক্ষ্যণীয়Ñসিইও, সিওও, সিএফও হওয়ার জন্য অবশ্যই তার বিজনেস স্কিল, পিপল স্কিল, প্রফেশনাল স্কিল ও টেকনিক্যাল স্কিল থাকা জরুরি এবং সে আদলেই সিলেবাসটি করা হয়েছে। পুরোনো সিলেবাসের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাসের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে। আর কোনো বিষয়ে জানার ঘাটতি থাকলে তা বিভিন্ন ট্রেনিং ও সিপিডি প্রোগ্রামের মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা যাবে।

শেয়ার বিজ: চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সিআইএমএ, ইউকে) ও আইসিএমএবি’র পেশাগত যোগ্যতার মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কী? আইসিএমবি’র একাডেমিক অবকাঠামোগত সুবিধা তাদের পর্যায়ে কবে নাগাদ যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন?

মোহাম্মদ সেলিম: দুটি প্রতিষ্ঠানই কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট পেশাজীবী তৈরি করে। সিআইএমএ যুক্তরাজ্যকেন্দ্রিক পেশাগত ডিগ্রি দেয়। এটি ১৯১৯ সালে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে নামের পরিবর্তন আনে। আইসিএমএবি স্বাধীনতার পরপরই স্বাধীন বাংলাদেশের কর্মকাণ্ড শুরু করে। মূলত ১৯৭৭ সালের অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে এর মূল যাত্রা হয়। সে হিসেবে সিআইএমএ’র তুলনায় আমরা অনেক নবীন। তাদের রিসার্চভাণ্ডার অনেক সমৃদ্ধ। আইসিএমএবিকে একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। সিআইএমএ’র সঙ্গে আমরা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করছি। বাংলাদেশে দক্ষ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস তৈরি করার জন্য তারা আমাদের অনেক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নয়ন প্রয়োজন। যেমন প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, কোয়ালিটি স্টুডেন্ট, সার্বিক একাডেমিক উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কারিগরি উন্নয়ন, উন্নত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, গবেষণা প্রভৃতি।

শেয়ার বিজ: আইসিএমএবি নিয়ে আপনার স্বপ্ন?

মোহাম্মদ সেলিম: মরহুম রুহুল কুদ্দুস স্যার আইসিএমএবির প্রতিষ্ঠাতা। তিনি আমাদের অধিনায়ক। তার স্বপ্নকেই আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি স্বপ্ন দেখতেন এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত হবে, সব ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে। আমরা বর্তমানে যারা কাউন্সিলে দায়িত্বরত আছি সবাই সে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের অধিনায়কের সঙ্গে আমিও চাইÑআইসিএমএবি মেম্বাররা সারা বিশ্বে বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে প্রভাব রাখবে, নেতৃত্ব দেবে। কেবল অ্যাকাউন্ট্যান্ট নয়, বিজনেস লিডার হিসেবে দেশে ও দেশের বাইরে ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে শীর্ষস্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ সিএফও, সিওও, সিইও তথা বিজনেস লিডার হিসেবে অনাগত সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দক্ষ পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইসিএমবিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি বিশ্বমানের প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট হিসেবে রূপান্তর করাই হলো আমাদের স্বপ্ন।