বাণিজ্য সংবাদ

বিদায়ী অর্থবছরে চসিকের ৬০ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতি

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আয়ের প্রধান উৎস পৌরকর। এ খাত থেকে চসিক যাবতীয় আয়ের ৫০ শতাংশের অধিক রাজস্ব আহরণ করে থাকে। কিন্তু সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে এ খাতে তারা কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। এক লাখ সাড়ে ৮৫ হাজার হোল্ডিং থেকে ৩৩৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সেবা সংস্থাটি। বিপরীতে ১৩৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আদায় করে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৪০ শতাংশেরও কম।
চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মোট ১০ খাত থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন রাজস্ব আদায় করে। এর মধ্যে পৌরকর থেকে সর্বাধিক রাজস্ব আদায় হয়। এদিকে পৌরকর আদায় করে চসিক এলাকায় এমন সরকারি ও বেসরকারি হোল্ডিং রয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ৫৩৯টি। তার মধ্যে এক হাজার ৫১৫টি সরকারি ও এক লাখ ৮৪ হাজার ২৪টি বেসরকারি হোল্ডিং। তবে বেসরকারি হোল্ডিং থেকে নিয়মিত রাজস্ব আদায় হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাবরই পৌরকর বকেয়া থেকে যাচ্ছে। অন্যান্য বছরের মতো বিদায়ী অর্থবছরেও একই চিত্র দেখা যায়।
গত অর্থবছরে সরকারি এসব প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১ কোটি ৭৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। তার মধ্যে বকেয়ার দাবি ছিল ১৪৫ কোটি চার লাখ ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে এসব হোল্ডিং থেকে রাজস্ব আসে মাত্র ৬৯ কোটি ৩৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
অপরদিকে এক লাখ ৮৪ হাজার ২৪ বেসরকারি হোল্ডিং থেকে রাজস্ব ধরা হয়েছিল ১৩৪ কোটি ৪৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে বকেয়া দাবি ছিল ৪৯ কোটি ১২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। বিপরীতে চসিক বেসরকারি এসব হোল্ডিং থেকে রাজস্ব আদায় করে ৬৪ কোটি ২০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৪৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। তবে সরকারি ও বেসরকারি হোল্ডিং মিলে মাত্র ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ রাজস্ব আদায় হলেও ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে।
অপরদিকে আরও ৯ খাত থেকে ১২৭ কোটি ৯ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণ করে চসিক। এর মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স থেকে আয় করে প্রায় ২২ কোটি টাকা। ভূমি হস্তান্তর থেকে ৫৫ কোটি ৫০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, সপসাইন ও সাইনবোর্ড থেকে পাঁচ কোটি টাকা, যানবাহন থেকে ৮৩ লাখ টাকা, রিকশা লাইসেন্স ফি ৯২ লাখ টাকা, এস্টেটস ৪২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, চলচ্চিত্র ও বিনোদন কর থেকে এক লাখ ২২ হাজার টাকা ও বিবিধ থেকে ২০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আয় করে।
তবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সর্বমোট ২৬০ কোটি ৬৮ লাখ ৮১ হাজার ৫২১ টাকা আয় করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ২৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ৪১ হাজার ৮৯৫ টাকা।
এদিকে নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চসিকের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন বলেন, কয়েকটি কারণে সম্পূর্ণ রাজস্ব আদায় হয় না। এর মধ্যে জনবল সংকট একটি বিষয়। আর সিটি করপোরেশন সেবা সংস্থা হওয়ায় সাধারণ জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে না। ফলে বকেয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। অপরদিকে বেসরকারি খাত থেকে রাজস্ব আদায় হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রচুর বকেয়া থেকে যাচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বলছে, তারা সময়মতো বাজেট পাচ্ছে না। এ জন্য ৩৩ মন্ত্রণালয়কে বিভিন্ন সময় চিঠি দিয়ে বাজেট বরাদ্দ ও বকেয়া আদায়ের জন্য অনুরোধ করার পাশাপাশি আন্তঃমন্ত্রণালয়ে মিটিংও করা হয়েছে। কিন্তু কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন হয়নি।

সর্বশেষ..