হোম কোম্পানি সংবাদ বিদেশিদের আস্থা বাড়ছে পুঁজিবাজারে

বিদেশিদের আস্থা বাড়ছে পুঁজিবাজারে


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

দেশের পুঁজিবাজার ধীরে ধীরে ভালো অবস্থানে চলে যাচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে পুঁজিবাজারে। যারা ২০১০ সালের ধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, তারাও এখন আস্থা ফিরে পাচ্ছেন। সবচেয়ে আশার কথা, বিদেশিরাও আস্থাশীল হচ্ছেন। যার কারণে প্রতি প্রান্তিক শেষে বিদেশি বিনিয়োগ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। আর পুঁজিবাজারের প্রতি এ আস্থা যাতে অব্যাহত থাকে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সচেষ্ট থাকতে হবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ’র আলোচনায় এ বিষয়টি উঠে আসে। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান এবং শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের সিইও এমরান হাসান।

মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে গতিশীলতা এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারের যে টার্নওভার, তা স্বাভাবিক বলে মনে করি। ২০১৩-১৬ সাল এই কয়েক বছর বাজার নিয়ে অনেকে হতাশ ছিল বলে আমি মনে করি। এ সময় বাজারের দৈনিক যে লেনদেন হতো, তা স্বাভাবিকের নিচে ছিল। ২০১৭ সালে বাজারের যে পরিবর্তন এসেছে, তার পেছনে অনেক সামষ্টিক অর্থনৈতিক কারণ আছে। বাজারে নতুন অনেক তারল্য প্রবাহ এসেছে। যে কারণে টার্নওভার ও শেয়ারদর বৃদ্ধি পাচ্ছে। লক্ষ করলে দেখবেন, ২০১৩-১৪ সাল থেকে ব্যাংকসুদের হারে দ্রুত পতন হয়েছে। ডিপজিট ও ল্যান্ডিং রেট উভয়ই এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছে। আর সুদের হার যখন কমে তখন বাজারে এর অনেক প্রভাব পড়ে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আচরণে পরিবর্তন আসে। তারা কম সুদে ঋণ নিতে পারে। এতে তাদের বিনিয়োগ সম্প্রসারিত হয়। ফলে  কোম্পানির প্রফিট ক্ষমতা ও অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো উন্নত হয়। প্রফিট ক্ষমতা উন্নত হলে ইপিএসের প্রবৃদ্ধি ফিরে আসবে। এতে বিনিয়োগকারীরা একই শেয়ার বেশি দামে কিনতে আগ্রহী হবেন। অন্যদিকে ডিপোজিট রেট যখন কমে যায় তখন অনেকে তাদের পুঁজি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে চান। কারণ নির্ধারিত ডিপোজিটে বিনিয়োগ করে পাঁচ-ছয় শতাংশ লভ্যাংশ পাওয়া যায়। সরকারি সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ পাওয়া যায়। এতে ব্যাংকে ডিপোজিট আকর্ষণ হারায়। কোম্পানি, ফার্ম হাউজ, ব্যক্তিপর্যায়ের বিনিয়োগকারীরা তাদের পোর্টফোলিও রিব্যালান্সিং করে। পোর্টফোলিও রিব্যালান্সিং করলে পুঁজিবাজারে তারল্যের প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। কারণ নির্ধারিত ডিপজিট চলে আসে স্টক মার্কেটে। পোর্টফোলিও রিব্যালান্সিংয়ের কারণে যে নতুন তারল্যে প্রবাহ আসছে, তাতে শেয়ারের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে শেয়ারদর বাড়তে থাকে এবং দৈনিক লেনদেনও বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, বাজারে যখন ধস হয় তখন বিনিয়োগকারীরা ভীত হয়ে পড়ে এবং উন্নতি হলে ধীরে ধীরে আস্থা ফিরে আসে তাদের। কাজেই আমার মনে হয়, মার্কেটের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখন ফিরে আসছে। নতুন পুঁজি নিয়ে তারা এখন বাজারে আসছে ফলে টার্নওভার বাড়ছে।

এমরান হাসান বলেন, বাজারে এখন নতুন ফান্ড আসছে। প্রতিষ্ঠানগুলো আগের থেকে সক্রিয় হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। অন্যদিকে ডিএসইর ডাটা থেকে দেখা যাচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিদেশি বিনিয়োগও প্রতি কোয়ার্টারেই বাড়ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, তারাও এখন আমাদের বাজারে আস্থা রাখছে। তিনি বলেন, একসময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সরকারি শেয়ারের প্রতি আগ্রহ বেশি ছিল। এখন সেই প্রবণতা কমে গেছে। তারা এখন বহুজাতিক কোম্পানির দিকে বেশি ঝুঁকছেন। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু ব্ল–চিপ কোম্পানি এবং ব্যাংক খাতের প্রতিও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে তাদের।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম