সম্পাদকীয়

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে চাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

আধুনিক বিশ্বে কোনো দেশই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশও প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, কারখানা স্থাপন প্রভৃতিতে বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করতে কর অবকাশসহ বিভিন্ন সুযোগ দেয়। বিশ্বের যে কোনো পুঁজিবাজারে বৈদেশিক লেনদেনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পুঁজিবাজারে বিদেশিদের বিনিয়োগ বাজারটির ভিত্তি মজবুত করে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তাই পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতেও ব্যবস্থা নেয় উন্নত দেশগুলো।
বর্তমানে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের সুযোগ অনেক। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বেসরকারি বিনিয়োগে সহায়ক ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতির ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কার করেছে। বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগ সুবিধার মধ্যে রয়েছে শতভাগ সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (ডিএফআই), রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) যৌথ বিনিয়োগ অথবা এ এলাকার বাইরের বিনিয়োগ ও স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে পাবলিক কোম্পানির শেয়ার কেনার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত বিনিয়োগ।
গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদন ‘পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ: উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশের তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশ’ সংগত কারণেই হতাশাজনক। এতে প্রমাণিত হয়, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আমাদের নেওয়া নীতি-প্রণোদনা যথেষ্ট নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের পুঁজিবাজারের ২১ দশমিক দুই শতাংশ, শ্রীলঙ্কার সাত দশমিক ছয় শতাংশ, ভিয়েতনামের ২৩ দশমিক তিন শতাংশ ও মালয়েশিয়ার ২৬ দশমিক তিন শতাংশ বিদেশিদের হাতে। অথচ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে মোট বাজার মূলধনের মাত্র ছয় দশমিক তিন শতাংশ বিদেশিদের বিনিয়োগ। যদিও মাঝেমধ্যে এই হার সাড়ে সাত থেকে আট শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে।
আমরা মনে করি, পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগে কোনো বাধা থাকলে সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা না করা এবং অন্যটি লেনদেন সেটলমেন্ট। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন, সেই কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালোভাবে পর্যালোচনা করেন। তারা গুজবের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করেন না। ব্যবসা সম্প্রসারণে বিদেশিদের নিজস্ব কিছু জিজ্ঞাসা থাকে, যেগুলো সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে জানতে চান। কিন্তু বেশিরভাগ কোম্পানি এতে সাড়া দেয় না।
আবার সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিন ভিন্ন হওয়ায় লেনদেন নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত কিছু সমস্যা দেখা দেয়। শুক্রবার ও শনিবার বাংলাদেশে ছুটি। অন্যদিকে রোববার অন্যান্য দেশে ছুটি থাকে। এ সময় যোগাযোগ করার সুযোগ থাকে না।
বাজারে ভালো শেয়ারের জোগান বাড়লে বিদেশিদের আগ্রহ আরও বাড়বে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বাজারকে কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে তোলার চেষ্টা না করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।

সর্বশেষ..