বিদ্যালয়ে নৈতিকতা শেখাতে চাই জোরালো উদ্যোগ

বেসরকারি সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযান পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা দিতে পারছে না ৫৬ শতাংশ বিদ্যালয়। এ তথ্য নিঃসন্দেহে হতাশাব্যঞ্জক। এতে জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনৈতিকতার চর্চা ও মূল্যবোধের সংকট শুধু বেড়ে উঠছে; এর নেতিবাচক প্রভাব নানাভাবে পড়ছে সমাজে। অনাচার ও দুর্নীতি বেড়ে ওঠার পাশাপাশি সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে অনেক ক্ষেত্রে। বস্তুত বিদ্যালয়ের দায়িত্ব শিক্ষার্থীকে শুধু কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠদান নয়; প্রয়োজনীয় সামাজিক আচার, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর মাধ্যমে তাকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। শিক্ষার্থী যদি বিদ্যালয়ে এ ধরনের শিক্ষা না পায়, তাহলে তার ব্যক্তিত্বে এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যেতেই পারে। আমরা মনে করি, এ পরিস্থিতির উত্তরণে কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। শিক্ষকরা যাতে পাঠদানের ক্ষেত্রে কারিকুলামের বাইরেও এসব বিষয়ে শ্রেণিকক্ষে নির্দেশনা প্রদান করেন এবং নৈতিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করেন, সে লক্ষ্যে নিশ্চিত করতে হবে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের মোটিভেশনটাও জরুরি।
শিক্ষার্থীকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধোর মতো জরুরি বিষয় শেখানোর দায়িত্ব শুধু বিদ্যালয়ের নয়, এটিও আমরা বলব। তারা সেখানে অবস্থান করে দিনের একটা সময়ে এবং তা রোজ নয়। বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ছুটিও রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সময় তারা কাটায় বাইরেÑবিশেষত পরিবারে। সন্তানকে এসব বিষয় শেখানোর জন্য অভিভাবকদেরও তাই হতে হবে সচেতন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত। এখন কোনো অভিভাবকের যদি এসব ক্ষেত্রে দুর্বলতা বা জ্ঞানের ঘাটতি থাকে, তাহলে সন্তানকে এ ব্যাপারে শেখানো তার পক্ষে কঠিন। অভিভাবকদের এ বিষয়ে সচেতন করার জন্য গণমাধ্যমে চালানো যেতে পারে প্রচারণা। সর্বোপরি কথা হলো, একজন শিক্ষার্থীকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর জন্য বিদ্যালয় ও পরিবারের থাকতে হবে সমন্বিত প্রচেষ্টা।
গণশিক্ষামন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সংজ্ঞা একেক সময় একেক রকম। সময়ের সঙ্গে এর পরিবর্তন হয়। তবে পরিস্থিতি যাই হোক উচ্চ নৈতিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি কখনও এসব ব্যাপারে আপস করেন না। শঙ্কার কথা, আমাদের সমাজে এমন মানুষ কমে আসছে ক্রমে। এ ধরনের ‘সামাজিক পুঁজি’র অভাব অর্থনৈতিক উন্নয়নকেও করে বাধাগ্রস্ত। এজন্য শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বৃদ্ধিতে বিদ্যালয় আর পরিবারের বাইরে অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানেরও উদ্যোগ দেখতে চাইব আমরা। এতে অর্থনৈতিক উন্নয়নও হতে ত্বরান্বিত। বিদ্যালয় পর্যায় থেকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলা গেলে সামাজিক ন্যায়বিচার আর সুশাসন নিশ্চিত করাও সহজ বলে মনে করেন অনেক। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আমরা প্রত্যাশা করি। মনে রাখা দরকার, কোনো প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে যথাযথ শিক্ষার ঘাটতি থাকলে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের পরিস্থিতির উত্তরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।