বিদ্যুতের মানসম্পন্ন সরবরাহ নিয়েও ভাবতে হবে

লো-ভোল্টেজের কারণে উত্তরাঞ্চলের শিল্প এলাকা নীলফামারীর সৈয়দপুরে অধিকাংশ মিল-কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেল। সহযোগী এক দৈনিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কবে নাগাদ ওখানকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। এ খবর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা শুধু নয়, সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির জন্য দুঃসংবাদ। এতে প্রতিদিন শ্রমিকদের হাজার হাজার কর্মঘণ্টার অপচয়ই শুধু হচ্ছে না, অর্ডার পাওয়া পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদন করা কঠিন হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্টদের পক্ষে। ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ যারা নিয়েছেন, তাদের পড়তে হয়েছে বাড়তি দুশ্চিন্তায়। পরিস্থিতি শিগগির স্বাভাবিক না হলে সংকট যে আরও বাড়বে, তাতে সন্দেহ নেই। আমরা মনে করি, ওখানকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। মিল-কারখানাগুলো যাতে শিগগিরই স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে নেওয়া চাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবেÑবিদ্যুৎ বিভাগ সে ব্যাপারে ধারণা দিতে পারাটাও জরুরি। তাতে উদ্যোক্তাদের দুশ্চিন্তা অন্তত হ্রাস পাবে। ক্ষতি হিসাব করে ওঠাটাও অনেক সময় হয়ে ওঠে দরকারি।

এক সময় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে বড় রকম ঘাটতি ছিল, তার অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছি আমরা। সরকারকে দেখা যাচ্ছে, এ লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করতে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে এগিয়ে যাওয়াসহ প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মতো পদক্ষেপ নিতেও দেখা যাচ্ছে সরকারকে। এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার পদক্ষেপ তো চলমান। এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব বৈকি। সার্বিক বিবেচনায় মনে হয়, এখন আমাদের নজর দেওয়া উচিত মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধিতে। এটা করা না গেলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও সমস্যার সমাধান হবে না; বিশেষত গ্রাহককে সন্তুষ্ট করা কঠিন হবে।

দেশে আরও ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) গড়ে তুলবে সরকার। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠেÑএসব সফলভাবে পরিচালনার জন্য যে জ্বালানি প্রয়োজন, তার জোগান আসবে কোত্থেকে? সে ব্যাপারে কী ভাবছেন নীতিনির্ধারকরা? জ্বালানির মানসম্পন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এসব প্রতিষ্ঠান পরিপূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি উৎপাদনে তার সক্ষমতার প্রায় শতভাগ ব্যবহার করতে না পারেÑমুনাফায় এর প্রভাব পড়বে বৈকি। বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটা অধিকতর দুশ্চিন্তার কারণ। জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন সরবরাহের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের মালিককে যদি নিজস্ব উদ্যোগ নিতে হয়, তাহলে তাদের উৎপাদন খরচ বাড়বে। এতে কমে যাবে তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা। জ্বালানির কারণে কোনো উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকলে প্রণোদনা দিয়েও তার উৎসাহ ধরে রাখা মুশকিল হবে। বিদ্যুতের মানসম্পন্ন বিতরণ ব্যবস্থার দিকে এখন আমাদের আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে অর্থনীতির স্বার্থেই।