প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বিনিয়োগকারীরা স্থিতিশীলতার প্রত্যাশায় পুঁজিবাজারমুখী

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পতনের রেশ কাটিয়ে আবারও পুঁজিবাজারে ফিরতে শুরু করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। যে কারণে বদলাতে শুরু করেছে ব্রোকারেজ হাউজের চিত্র। কয়েকদিন আগের হাউজগুলোয় ছিল সুনসান নীরবতা। এখন তার উল্টো চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। হাউজে ফিরতে শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা। গতকালও হাউজগুলোয় এমন চিত্র দেখা গেছে।
গতকাল মতিঝিলের কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ ঘুরে দেখা যায়, বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। অথচ কিছুদিন আগে বেশিরভাগ হাউজে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যেত না। এসব হাউজের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, ব্রোকারেজ হাউজে ফিরলেও তাদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও তা স্থিতিশীল হবে কি নাÑএ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে। তারা একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার চান।
এসব বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, কয়েক দিন থেকে বাজারচিত্র কিছুটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। বাজারে যদি এই পরিবেশ স্থায়ী হয় তাহলে হয়তো এখানে বিনিয়োগের পরিবেশও ফিরে আসবে। আমরাও কিছুটা মুনাফা করতে পারব। তবে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য দুর্বল এবং ছোট কোম্পানির দৌরাত্ম্য থামানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তারা।
জানতে চাইলে স্টক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাকিল রিজভী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা ফিরে আসছেন এটা পুঁজিবাজারের জন্য শুভ লক্ষণ। কারণ তারা বিনিয়োগবিমুখ থাকলে বাজার কখনোই স্বাভাবিক হতে পারবে না। তারা ফিরে আসা আমাদের জন্যও ভালো খবর। কারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার লেনদেন না করলে আমাদের আয় কমে যায়। তখন আমাদের ব্যবসা চালাতেও হিমশিম খেতে হয়।
একই প্রসঙ্গে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে বাজার ভালো রাখার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। কারণ এখানে অনেক বিনিয়োগকারী রয়েছেন, যাদের রুটি-রুজি হয় এখান থেকে। বাজার ভালো না থাকলে তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। আমরা সবার আগে তাদের কথাই ভাবি।
প্রসঙ্গত, গত ২০১০ সালে পুঁজিবাজার পরিস্থিতি যখন খুবই ভালো ছিল, তখন ডিএসইর দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার কোটি টাকা। কারণ তখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। ফলে লেনদেনও বেশি হতো। সে কারণে ঢাকার প্রতিটি হাউজে গড়ে ৩০ কোটি টাকা লেনদেন হতো। পরবর্তী সময়ে বাজার মন্দা যাওয়ায় তা অনেক নিচে নেমে যায়। বিনিয়োগকারীরাও বাজার ছেড়ে চলে যায়। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে ব্রোকারেজ ব্যবসায়। এখন পুঁজিবাজার পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হওয়ায় ব্যবসাও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, বিনিয়োগকারীদের বাজারে ফিরে আসা মানে লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়া। তারা লেনদেন না করলে ব্যবসা চালিয়ে নিতে আমাদের খুব বেশি বেগ পেতে হয়। সেই সময় আমরা বাধ্য হয়েই কর্মী ছাঁটাই করি। এক সময় আমাদের হাউজে লেনদেন হতো ১০০ কোটি টাকা। পরে তা অস্বাভাবিক হারে কমে যায়। এখন বাজার ভালোর দিকে যাচ্ছে। আশা করছি, আমাদেরও সুদিন ফিরে আসবে। তবে এর জন্য দরকার ধারাবাহিক স্থিতিশীলতা।
জানা যায়, ২০১০-২০১১ সালে পুঁজিবাজার যখন ঊর্ধ্বমুখী ছিল তখন হাউজগুলো বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে তাদের শাখা খোলে। কিন্তু বাজারে ধস নামার পর থেকে কমতে থাকে সিকিউরিটিজ হাউজগুলোর আয়। কর্মী ছাঁটাই করে ব্যয় কমিয়ে এনে ব্যয় কমায় হাউজগুলো। এ সময় কয়েকটি হাউজ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে এই পরিস্থিতি নেই। ডিএসইর দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে ২৫০টি ব্রোকারেজ হাউজের মধ্যে ২৩৪টি হাউজ তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */