প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ বাজেট

রুবাইয়াত রিক্তা: বাজেট ঘোষণার পরে গতকাল প্রথম দিনের লেনদেনে পুঁজিবাজারে টানা বিক্রির চাপ ছিল। অর্থাৎ বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য যেসব প্রস্তাব ছিল সেগুলো বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বাজেট নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল, যে কারণে বাজেট ঘোষণার আগে বাজারকে বেশ গতিশীল অবস্থানে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ঘোষিত বাজেটে একমাত্র বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণায় কোম্পানিগুলোর ওপর ১৫ শতাংশ করারোপ করা ছাড়া বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না থাকায় বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ে। গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা দেখা যায়। বস্ত্র খাতে লেনদেন বাড়লেও কেনার চাপ খুব বেশি ছিল না। তবে ওষুধ, রসায়ন ও চামড়াশিল্প খাতে কেনার চাপ বেশি ছিল। বাকি সব খাতে ছিল বিক্রির চাপ। এর মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, সেবা ও আবাসন, ভ্রমণ ও অবকাশ খাত শতভাগ নেতিবাচক ছিল।
চার শতাংশ বেড়ে গতকাল বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশ বা ৯৫ কোটি টাকা। দর বেড়েছে ৪২ শতাংশ কোম্পানির। এ খাতের নিউ লাইন ক্লথিংয়ের সোয়া ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে এক টাকা ৪০ পয়সা। কোম্পানিটি দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। ড্রাগন সোয়েটারের সোয়া আট কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে এক টাকা। প্রায় আট শতাংশ বেড়ে আরএন স্পিনিং দরবৃদ্ধিতে চতুর্থ অবস্থানে উঠে আসে। ১৪ শতাংশ লেনদেন হয় ওষুধ ও রসায়ন খাতে। এ খাতে ৫০ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। এমবি ফার্মাসিউটিক্যালস, জেএমআই সিরিঞ্জ ও সিলকো ফার্মা দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। এসব শেয়ারের দর সোয়া সাত থেকে সাড়ে সাত শতাংশ বেড়েছে। সোয়া ২৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে জেএমআই সিরিঞ্জ লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে। সিলকো ফার্মার প্রায় সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়। বিমা খাতে লেনদেন হয় ১৪ শতাংশ। এ খাতে ৮২ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। তবে ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে নর্দার্ন ও গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স। প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের দর সাড়ে সাত শতাংশ বেড়েছে। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১৩ শতাংশ। এ খাতে ৭১ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়েছে। বিবিএস কেব্লসের সোয়া ১২ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দরপতন হয় এক টাকা ৮০ পয়সা। ইস্টার্ন কেব্লসের সোয়া আট কোটি টাকা লেনদেন হলেও ১৭ টাকা ৩০ পয়সা দরপতন হয়। খাদ্য খাতে ৪৭ শতাংশ, চামড়াশিল্প খাতে ৮৩ শতাংশ ও পাট খাতে ৬৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে।

সর্বশেষ..