করপোরেট টক

‘বিনিয়োগবান্ধব কোম্পানি হয়ে উঠতে চাই’

আপনার কর্মজীবনের গল্প দিয়ে শুরু করি…

হাফিজুর রহমান খান: নওগাঁয় উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করি। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করি। আমি অসচ্ছল পরিবারে বড় হয়েছি। তবে চাকরির প্রতি আমার কোনো আগ্রহ ছিল না। সব সময়ই নিজের মতো করে কিছু করার চেষ্টা করতাম। অবশ্য পরিবারের কথা চিন্তা করে পড়ালেখা শেষে চাকরি নিয়েছি, কিন্তু মন বসাতে পারিনি। তাই ব্যবসায় চলে আসি।

রানার গ্রুপের পথচলা সম্পর্কে জানতে চাই…

হাফিজুর রহমান: চাকরি ছেড়ে ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ব্যবসায় আসি। কারণ আমি সব সময় নিজের মতো করে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চেয়েছি। নতুন কিছু করতে চেয়েছি। শুরুতে পুঁজি ছিল না। মাত্র ২০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করি। অনেক পরিশ্রম করেছি জীবনে। কয়েক বছর একটানা পরিশ্রমের ফলে ১৯৮৩ সালে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। এরপর ধীরে ধীরে আজকের রানার গ্রুপ। কতটা সফল হয়েছি জানি না, তবে নিজের মতো করে একটা পথ তৈরি করতে পেরেছি। এখন প্রায় দুই হাজার মানুষ আমার সঙ্গে কাজ করছে। অনেক বড় একটি পরিবার হয়ে উঠেছি। এখনও কাজ করছি, যতক্ষণ সম্ভব কাজ করে যাব।

রানার অটোমোবাইলস সম্পর্কে কিছু বলুন…

হাফিজুর রহমান: স্বল্প আয়ের মানুষের সাধ ও সাধ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে মোটরসাইকেল উৎপাদন করছি। তুলনামূলকভাবে কম দাম ও সহজ কিস্তিতে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি মোটরসাইকেল। এভাবে অল্প সময়ে একটি জায়গা করে নিতে পেরেছি। সামনের দিনগুলোয় আরও অনেক পরিকল্পনা আছে। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে অত্যাধুনিক
প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিত্যনতুন পণ্য আনছি। সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তা পেলে আমরা ভবিষ্যতে দেশের অটোমোবাইল খাতকে আরও এগিয়ে নিতে পারব।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির উপকারিতা কী বলে আপনি মনে করেন?

হাফিজুর রহমান: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানির পরিসর বাড়ে। কোম্পানিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ে। এতে একটি কোম্পানির ভিত শক্ত হয়। কোম্পানিটি পরিবার বা অল্প কয়েকজনের গণ্ডি পেরিয়ে বহু মানুষের হয়ে ওঠে। এ কারণে আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে ব্যবসা শুরু করি, আমাদের অবর্তমানেও সেই স্বপ্ন বেঁচে থাকে। ব্যক্তির সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নের মৃত্যু হয় না। এ কারণেই মূলত পুঁজিবাজারে এসেছি। আমরা বিনিয়োগকারীবান্ধব কোম্পানি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি মনে করি, প্রত্যেকটি ব্যবসাসফল প্রতিষ্ঠানেরই পুঁজিবাজারে আসা উচিত। তাহলে কোম্পানির স্বচ্ছতা-জবাবদিহি বাড়বে। বাজার থেকে প্রয়োজনে পুঁজি নিয়ে কোম্পানির পরিসর বাড়ানোর পথও তৈরি হয়।

রানার গ্রুপের এগিয়ে চলার মূলমন্ত্র কী?

হাফিজুর রহমান: একটি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে তার গ্রাহক ও জনবলের ওপর। একটিকে বাদ দিলে অন্যটি অচল হয়ে পড়ে। তাই আমরা সব সময় পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয়োত্তর সেবার ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। পণ্যের গুণগত মান বাড়াতে গবেষণার ওপর জোর দিচ্ছি। এতে ভবিষ্যতে গ্রাহকের আস্থা আরও বাড়বে, যা আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নেবে। তাই গ্রাহক সন্তুষ্টির দিকটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বসহ দেখছি।
অন্যদিকে বর্তমানে রানার গ্রুপে দুই হাজার কর্মী রয়েছে। আমরা কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সব সময় কাজ করি। দেশ ও দেশের বাইরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। এখানকার সব কর্মী রানার পরিবারের সদস্য। এজন্য কর্মী ও তাদের পরিবারের চিকিৎসা ও শিক্ষার দিকগুলোতেও আমরা নজর রাখি। তারা ভালো থাকলে তাদের মেধা-শ্রমে ভর করে আমরাও এগিয়ে যাব।

সর্বশেষ..