প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বিনিয়োগসীমা থেকে বাদ যাচ্ছে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি!

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে পতন ঠেকাতে কাজে আসছে না কোনো উদ্যোগ। নিয়ন্ত্রক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা একটার পর একটা ভেস্তে যাচ্ছে। ফলে পুঁজিবাজার তার স্বরূপে ফিরছে না।পতনের লাগাম টানতে এবার উদ্যোগী হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পতন রোধে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা থেকে বাদ যাচ্ছে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি। এটি কার্যকর হলে বাজারে কিছুটা হলেও স্থিতিশীলতা আসবে বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, পুঁজিবাজারে চলমান তারল্য সংকট কাটিয়ে তুলতে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধান করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক সভায় গভর্নর এ আশ্বাস দিয়েছেন। এতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম. খায়রুল হোসেন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএসইসি চেয়ারম্যান পুঁজিবাজারে চলমান তারল্য সংকটের কারণসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা হিসাব থেকে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির বিনিয়োগকে বাদ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এরই আলোকে গভর্নর বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, পুঁজিবাজারের টেকসই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে খাতটিতে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার যে সংজ্ঞা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করেছে, তার পরিবর্তন তথা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তাদের মতে, বিনিয়োগসীমা থেকে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি বাদ দিলে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়বে। এতে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে।
জানতে চাইলে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা থেকে তালিকাবহির্ভূত প্রতিষ্ঠান বাদ দিলে তাদের বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়বে। তারা বাড়তি কিছু অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবে। এটা পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে।
একই প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে বহু সমস্যা রয়েছে। ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা থেকে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি বাদ দেওয়া অবশ্যই পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। তবে বাজারকে ভালো করতে হলে দুর্বল কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাদ দিয়ে ভালো মানের কোম্পানি নিয়ে আসতে হবে।
এদিকে বিশ্বের সব পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডসহ অন্য ফান্ডগুলো পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখনও অনেকটাই ব্যাংকনির্ভর। কিন্তু ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়। আগে কোনো ব্যাংক তার মোট আমানতের ১০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারত। কিন্তু ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের পর ব্যাংকগুলো পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু এ বিনিয়োগসীমার ২৫ শতাংশ পুরোটা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে হিসাবে নিলে কোনো ক্ষতি ছিল না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব ব্যাংকের তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড সব ধরনের বিনিয়োগকেই ২৫ শতাংশের মধ্যে হিসাব করছে, যা ব্যাংকগুলো নতুন করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারছে না।
সূত্রমতে, ২০১০-১১ সালের পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের পর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বাজারকে স্থিতিশীলতায় ফেরাতে নেওয়া কয়েকটি সুপারিশের মধ্যে একটি ছিল ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের এক্সপোজার হিসেবে হিসাব না করা। পরে ২০১৪ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের পর এসব বিষয় চাপা পড়ে যায়।
পরে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা পরিশোধিত মূলধনের ২৫ শতাংশ ঠিক রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিরোধিতা করে আসছিলেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের যুক্তি ছিল, বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার স্বার্থে কিছু বিনিয়োগকে এ সীমার বাইরে রাখতে পারে। যেমন তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি ও বিভিন্ন বন্ডে বিনিয়োগ।
এটা করা হলে ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য কিছু তহবিল বাড়তি পায়। যেহেতু আমাদের পুঁজিবাজার এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব নয়, তাই এখানে ব্যাংকই বাজারের মূলশক্তি। মিউচুয়াল ফান্ডগুলো এখনও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাই মিউচুয়াল ফান্ডসহ অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি সক্ষমতা ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত পুঁজিবাজারকে সচল রাখতে গেলে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।

সর্বশেষ..



/* ]]> */