বিনিয়োগের নতুন গন্তব্য হবে বাংলাদেশ

চিটাগং চেম্বারে থাই বাণিজ্য প্রতিনিধিদল

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে থাইল্যান্ড বিনিয়োগ বাড়াতে গভীর আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে সফররত দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদল জানায়, বাংলাদেশ হবে থাই বিনিয়োগের নতুন গন্তব্য। থাইল্যান্ডের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ে বাণিজ্য প্রতিনিধিদল গতকাল চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (সিসিসিআই) নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে মতবিনিময় সভা শেষে এসব কথা বলেন।
চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় থাইল্যান্ডের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল নেতা মানু সিথিপ্রসাসানা, থাই বিনিয়োগ বোর্ডের সিনিয়র ইনভেস্টমেন্ট কর্মকর্তা অপিপং খুনকর্ন বডিন্টার, চেম্বার সহসভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এএইচএম, সফিকুজ্জামান ও চেম্বারের প্রাক্তন পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বক্তব্য রাখেন। এ সময় চেম্বার পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), এমএ মোতালেব, অঞ্জন শেখর দাশ, এসএম শামসুদ্দিন, মো. আবদুল মান্নান সোহেল, ইপিবি’র পরিচালক কংকন চাকমা, বিডার উপপরিচালক এম মোজাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসর অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি সৈয়দ মো. শোয়েব হাসান, বিজিএপিএমইএ’র পরিচালক কেএইচ লতিফুর রহমান (আজিম), উইম্যান চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি আবিদা মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম গত বছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ এক দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার উল্লেখ করে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি পণ্যের নিয়মিত প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিচিতি ও বাজার সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি এক্ষেত্রে ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য এবং রফতানি ঝুড়িতে নিত্যনতুন অন্তর্ভুক্ত পণ্য আমদানি বৃদ্ধির আহ্বান জানান। এছাড়া থাইল্যান্ডের র‌্যানং পোর্টের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরুর মাধ্যমে আমদানি-রফতানিতে সময় ও ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব হবে। চেম্বার সভাপতি উভয় দেশের প্রাইভেট সেক্টরের মধ্যে ডায়ালগ এবং উভয় বিনিয়োগ বোর্ডের পারস্পরিক সহযোগিতা ও ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরামর্শ প্রদান করেন।
থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি নেতা মানু সিথিপ্রসাসানা বলেন, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে চমৎকার ব্যবসায়ী সম্পর্ক রয়েছে। তিনি উভয় দেশের মধ্যে অধিকতর অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ন এবং পারস্পরিক সুযোগ-সুবিধা অন্বেষণ করা এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে সুবর্ণ সম্ভাবনা উšে§াচন এ সফরের উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেন।
প্রতিনিধিদল চট্টগ্রামের সঙ্গে থাইল্যান্ডের সরাসরি নৌপথের সংযোগ স্থাপনে থাই সরকার কাজ করছে বলে জানান। এর ফলে উভয় দেশ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক করিডোরের সঙ্গে সংযুক্ত হবে এবং জাহাজে পণ্য চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চেম্বার সহসভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ প্রকৃত ব্যবসায়ী ও রোগীদের জন্য ভিসা সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ হতে প্রচুর পরিমাণ পণ্য আমদানির অনুরোধ জানান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান বর্তমান সরকার বাংলাদেশী পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং নতুন নতুন বাজার সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি থাইল্যান্ডের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের প্রস্তাবনা পেলে শ্রমঘন শিল্প স্থাপনে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলে জানান।
থাই বিনিয়োগ বোর্ড প্রতিনিধি অপিপং খুনকর্নবডিন্টার বাংলাদেশকে বিনিয়োগের টার্গেট দেশ উল্লেখ করে থাই সরকার তার দেশের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে বলে জানান।
প্রতিনিধিদল মতবিনিময় শেষে বিটুবি সেশনে অংশগ্রহণ করেন এবং রফতানি পণ্যের এক্সিবিশন হল পরিদর্শন করেন।