বিনিয়োগের মন্দা কাটাবে বেজা

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান

শেয়ার বিজ: বেজার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা একটু ব্যাখ্যা করবেন কি?

পবন চৌধুরী: বিনিয়োগের মন্দা কাটাতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। দু-এক বছরের মধ্যেই এর ফল দেখা যাবে। বলা হয়, আমাদের দেশে অনেক কারণে বেসরকারি বিনিয়োগে গতিশীলতা কম। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

শেয়ার বিজ: অর্থনৈতিক অঞ্চলে কী ধরনের সুবিধা থাকবে?

পবন চৌধুরী: বিনিয়োগ অবকাঠামো, ইউটিলিটি সার্ভিস, অন্যান্য সেবা ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস পেতে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য আমরা কাজ করছি।

শেয়ার বিজ: ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্য আপনাদের। এর মধ্যে কয়টি এখন বিনিয়োগের উপযোগী?

পবন চৌধুরী: এ মুহূর্তে মোংলা, মীরসরাই ও শ্রীহট্ট অঞ্চল বিনিয়োগের জন্য প্রস্তত। এসব এলাকার জমি শিল্পায়নের জন্য দেওয়া হয়েছে। ২০১২ সালে আমরা পাঁচটি জোনের তালিকা করেছিলাম। এর মধ্যে আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলটি আমরা প্রাথমিকভাবে চিন্তা করলেও পরে সেটা মানানসই মনে হয়নি। তাই তা বাদ দিয়েছি। অপর একটি ছিল সিরাজগঞ্জ অঞ্চল। একে আমরা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের হাতে দিচ্ছি। এ ছাড়া বেসরকারিভাবে আমরা চারটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছি। আরও ১২টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাক-যোগ্যতা সনদ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, তারাও দ্রুত চূড়ান্ত সনদ পাবে।

শেয়ার বিজ: বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রধান সমস্যা জমি। এ বাস্তবতায় আপনাদের ল্যান্ড ব্যাংকে কী পরিমাণ জমি আছে?

পবন চৌধুরী: আমরা গত দুই বছরে প্রায় ৩৮ হাজার একর জমি ল্যান্ড ব্যাংকে সম্পৃক্ত করেছি। আশা করছি, কয়েক বছরের মধ্যে এক লাখ একর বা ৪০ হাজার হেক্টর জমি ল্যান্ড ব্যাংকে নিতে পারব।

শেয়ার বিজ: উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি এরই মধ্যে আপনারা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। এটা কৃষি জমির ওপর কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করেনি তো?

পবন চৌধুরী: আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত জমি কিংবা দূরের চর এলাকার জমি উন্নয়ন করেছি। ৯০ শতাংশই এমন। এর বাইরে পাঁচ শতাংশের মতো জায়গা আছে বেসরকারি অঞ্চলের। আর পাঁচ শতাংশ জমি আমরা অধিগ্রহণ করেছি। তবে বেজা কারো জন্য হুমকি নয়। সফলভাবেই আমরা কৃষি জমিকে এড়িয়ে এ বিশাল ল্যান্ড ব্যাংক গড়ে তুলতে পেরেছি।