বিনিয়োগ বাড়ছে দুর্বল ও স্বল্প মূলধনি কোম্পানিতে

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে দু’দিন ধরে ইতিবাচক গতি দেখা গেছে। প্রথম দিনে লেনদেনের পুরো সময়জুড়ে শেয়ার কেনার চাপ থাকলেও গতকাল বিক্রির চাপও ছিল। জানা গেছে, আইসিবি পুঁজিবাজারে সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শেয়ার কেনা শুরু করেছে। এ খবরে অনেকে শেয়ার বিক্রিও করছেন, যে কারণে গতকাল ১০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন বাড়লেও সে অনুপাতে সূচক ইতিবাচক হয়নি। আর সূচক না বাড়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের দুর্বল ও স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ প্রবণতা। গতকাল দরবৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ ২০টি কোম্পানি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এর মধ্যে আটটি ছিল জেড ক্যাটেগরির, বি ক্যাটেগরির দুটি, এন ক্যাটেগরির একটি ও বাকি ৯টি ছিল এ ক্যাটেগরির কোম্পানি। তবে এসব কোম্পানি এ ক্যাটেগরির হলেও অধিকাংশই বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের স্বল্প মূলধনি কোম্পানি। কোম্পানিগুলো ছিল ইমাম বাটন, ওয়ান ব্যাংক, মেঘনা পেট, সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল, প্রাইম টেক্সটাইল, জুট স্পিনার্স, এপেক্স ফুড, এইচ আর টেক্সটাইল, শ্যামপুর সুগার মিল, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, সাফকো স্পিনিং, জিলবাংলা সুুুগার মিল, সমতা লেদার, এমএল ডায়িং, এভিন্স টেক্সটাইল, ফারইস্ট নিটিং, রংপুর ফাউন্ড্রি, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার ও বিচ হ্যাচারি। অন্যদিকে লেনদেনের শীর্ষে থাকা যেসব কোম্পানির দর বেড়েছে, সেগুলোও ছিল স্বল্প মূলধনি। ২৪ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হওয়া শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে তিন টাকা ৬০ পয়সা। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১৯০ কোটি টাকা। প্রায় ১৭ কোটি টাকা লেনদেন হওয়া ইনটেক লিমিটেডের দর বেড়েছে দুই দশমিক ১৫ শতাংশ। এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন মাত্র ৩০ কোটি টাকা। প্রায় ১৪ কোটি টাকা লেনদেন হওয়া সায়হাম কটনের দর বেড়েছে এক টাকা। এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা। অপর ১৪ কোটি টাকা লেনদেন হওয়া অ্যাডভেন্ট ফার্মার দর বেড়েছে এক টাকা ৯০ পয়সা। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। ১২ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হওয়া শাশা ডেনিমের দর বেড়েছে দুই টাকা। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২৫০ কোটি টাকা।
গতকালও মোট লেনদেনের ২৭ শতাংশ বা ১৫৯ কোটি টাকা লেনদেন হয় বস্ত্র খাতে। এ খাতে ৬৫ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১৪ শতাংশ লেনদেন হয়। এ খাতে ৭৭ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। এ খাতে ৫০ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ। এ খাতে ৫২ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। আর কোনো খাতে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়নি। ব্যাংক খাতে মাত্র পাঁচ শতাংশ এবং আর্থিক খাতে তিন শতাংশ লেনদেন হয়েছে। আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত ২২ কোম্পানির মধ্যে চলতি হিসাববছরে প্রথম ৯ মাসে ১৪টি কোম্পানির ইপিএস ব্যাপকহারে কমেছে। সুদের হার কমানো, খেলাপি ঋণের বিরুদ্ধে কঠোরতা ও পুঁজিবাজারে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ার কারণে কোম্পানিগুলো বড় ধরনের লোকসানের কবলে পড়েছে।