বিনিয়োগ বাড়াতে তুর্কি ব্যবসায়ীদের এফবিসিসিআই’র আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) তৈরি পোশাক, চামড়া, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে তুরস্ক এবং বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এছাড়া এফবিসিসিআই তুরস্কের প্রযুক্তি ও সম্ভাবনাময় শিল্পকারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছে।

গতকাল বুধবার ফেডারেশন ভবনে এফবিসিসিআই নেতাদের সঙ্গে তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল (টিবিবিসি) প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও সিনিয়র সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম সভায় উপস্থিত ছিলেন। টিবিবিসির চেয়ারপারসন লোরা গক তুরস্ক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় বাংলাদেশে তুরস্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মুরাত ইয়ারাত এবং টিবিবিসির সহকারী সমন্বয়ক তুলিন এভসি উপস্থিত ছিলেন। এফবিসিসিআই পরিচালকদের মধ্যে রেজাউল করিম রেজনু, মো. আবু নাসের, মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ও নিজামুদ্দিন রাজেশ আলোচনায় অংশ নেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি তৈরি পোশাক, চামড়া, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে তুরস্ক এবং বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগ স্থাপনের বিষয়ে তার আগ্রহ প্রকাশ করেন। দেশের দ্রুত বর্ধমান উন্নয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ছয় শতাংশ হারে অর্জিত হচ্ছে, যা গত দু’বছরে সাত শতাংশে উন্নীত হয়েছে। নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ থেকে আগামী ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে বলে এফবিসিসিআই সভাপতি  উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া আকর্ষণীয় বিনিয়োগ সুবিধা, যেমনÑট্যাক্স হলিডে, দ্বৈত করের ক্ষেত্রে সুবিধা, করপোরেট কর সুবিধা ইত্যাদি গ্রহণ করে তিনি তুরস্কের ব্যবসায়িদের বাংলাদেশের ‘অর্থনৈতিক জোন’ বা জোনের বাইরে সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

তুরস্ক-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারপানসন লোরা গক বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশ থেকে আরও পণ্য আমদানির বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও উন্নত করতে দু’পক্ষকে নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এফবিসিসিআই সিনিয়র সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম তার বক্তব্যে বলেন, এফবিসিসিআই এবং টিবিবিসির মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক এর আগে স্বাক্ষরিত হয়েছে তা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে। যার ফলে দু’দেশের সম্ভাবনাময় বাজার এবং বিনিয়োগের সম্ভাব্য খাতগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও দ্রুততর করতে তুরস্কের প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ-জ্ঞান শেয়ারের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬৩১ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য তুরস্কে রফতানি করে এবং তুরস্ক থেকে ২১২ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে।

তুরস্কে বাংলাদেশের রফতানিযোগ্য পণ্যগুলো হচ্ছে ওভেন গার্মেন্ট, পাট ও পাটজাত পণ্য, নিটওয়্যার, ম্যানমেড ফিলামেন্টস অ্যান্ড স্টেপল ফাইবারস, সিরামিক পণ্য এবং হোম টেক্সটাইল। আর তুরস্ক থেকে মূলত যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, বস্ত্র, রাসায়নিক উপাদান, প্লাস্টিক ও রাবার উপাদান ইত্যাদি আমদানি করা হয়।