বিনিয়োগ বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত

রুবাইয়াত রিক্তা: একদিন সংশোধনের পর বাজার ফের ইতিবাচক ছিল গতকাল। সবগুলো সূচক ও লেনদেন বাড়লেও বেশিরভাগ কোম্পানি দরপতনে ছিল। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রায় ৪০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। কমেছে সাড়ে ৪১ শতাংশ শেয়ারদর। অর্থাৎ শেয়ারের দর বৃদ্ধি ও কমার মধ্যে ব্যবধান ছিল সামান্য। আগের দিনের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৩ কোটি টাকা। তবে গতকাল সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ বেড়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে। এরপর বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিক থেকে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। আর বিনিয়োগ কমেছে ব্যাংক খাতে।
গতকাল বস্ত্র খাতে সবচেয়ে বেশি ২৩ শতাংশ বা ১১৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়। আগের দিনের তুলনায় এ খাতে লেনদেন বেড়েছে ১৪ কোটি টাকা। এ খাতে মাত্র ২৮ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। আলহাজ টেক্সটাইল দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। এছাড়া শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাড়ে ২৩ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে দুই টাকা ৪০ পয়সা। সায়হাম কটনের প্রায় ১৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে লেনদেন হয় ১৭ শতাংশ। এ খাতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। প্রায় ৫৩ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। সাড়ে ৩৪ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়ে বাজারে নেতৃত্ব দেয় ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি। প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য আগামীকাল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও কোম্পানিটি ইউনাইটেড এনার্জি লিমিটেড নামে অপর একটি কোম্পানির ৯৯ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছে। এ সংবাদ ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশের আগেই শেয়ারটির দর ও লেনদেন বেড়ে গেছে। সংবাদ প্রকাশের আগেই কোম্পানিটি লেনদেন ও দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে। খুলনা পাওয়ারের ১৫ কোটি ও সামিট পাওয়ারের ১১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে খুলনা পাওয়ার দরপতনে ছিল। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১৪ শতাংশ। এ খাতে ৫৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। অরিয়ন ইনফিউশন, জেএমআই সিরিঞ্জ, ওয়াটা কেমিক্যাল, কহিনূর কেমিক্যাল দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। এসব শেয়ারের দর সাড়ে আট থেকে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিবিধ খাতে লেনদেন কমলেও এ খাতের এসকে ট্রিমসের প্রায় ১০ শতাংশ দর বৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেন হয় প্রায় ২০ কোটি টাকার। ব্যাংক খাতে লেনদেন কমেছে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা বা এক শতাংশ। এ খাতে ৪৩ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। টেলিযোগাযোগ, চামড়া শিল্প ও পাট খাত শতভাগ ইতিবাচক ছিল। সোনালি আঁশ দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। খাদ্য খাতে ৫৩ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে জেমিনি সি ফুড দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। সম্প্রতি ‘বি’ ক্যাটেগরিতে নামার পরও সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানির দর বেড়েছে দুই টাকা ২০ পয়সা।