স্পোর্টস

বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আবেগ রূপ নিয়েছে যন্ত্রণায়!

ক্রীড়া প্রতিবেদক: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরুর পর থেকে নানা অভিযোগ করে আসছে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা। যদিও খুব একটা প্রতিকার পাননি তারা। উল্টো লোকসান মেনে নিয়েই চলছেন। ক্রিকেটের প্রতি তীব্র আবেগ ও সুদিনের আশায় বসে রয়েছেন। কিন্তু কবে আসবে সে দিন। এ অপেক্ষা এখন তাদের কাছে রূপ নিচ্ছে যন্ত্রণার।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আদলেই বিপিএলের পথচলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমনটা হয়নি। উল্টো নিজেদের বানানো নিয়মেই গত চলছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। যে কারণে প্রতিনিয়ত বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। এবারের আসর শুরুর হওয়ার বেশ আগেই যা দেখা দিয়েছে।
অনেকেই হয়তো মনে করেন বিপিএলে দলগুলো আর্থিকভাবে অনেক উপকৃত হচ্ছে। কিন্তু ভেতরের খবর ভিন্ন। ছয়টি আসর শেষ হয়ে গেলেও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যা বিনিয়োগ করছে সেই অর্থের ধারে কাছেও পৌঁছাতে পারেনি! তাদের উপার্জনের অন্যতম উপায়ের একটি হলো জার্সি বিক্রি। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর দেওয়া তথ্য মতে তারা যা বিনিয়োগ করছে তার অর্ধেকও মার্কেট থেকে তুলতে পারেনি। এক্ষেত্রে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দলের প্রতি মৌসুমে ব্যয় হয় ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা। কিন্তু উপার্জন বিবেচনায় বেশিরভাগেরই সেই টাকার ২৫ ভাগ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ব্যাপারটি কিছুটা হলেও স্পষ্ট হয়েছে রাজশাহী কিংসের সিইও তাহমিদের কথায়, ‘আইপিএল তার প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বছরে দেড়শ’ কোটি টাকা লভ্যাংশ দেয়। বিসিবি সেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছ থেকে শুধু নেয়। আমরা খেলোয়াড়দের টাকা দিই, প্রচারে টাকা দিই, বিসিবিকে টাকা দিই। কম করে হলেও একটা দলকে ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা খরচ করতে হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি আয় শুধু লোগো ব্র্যান্ডিং থেকে। খরচের তুলনায় যা খুবই সামান্য। এভাবে খরচ করতে হলে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই বেশিদিন টিকবে না। দু-তিন বছর পর ছেড়ে চলে যাবে। তাই লভ্যাংশ না দিলে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা টিকবে না।’
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আলাদা করে বিসিবির কাছে অবশ্য অনুরোধও করেছিল লাভের অংশ চেয়ে। কিন্তু সেই অনুরোধ পাত্তা দেয়নি দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি। লোকসানে কেউ কেউ তো নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে মালিকানা থেকে। সর্বশেষ তাতে যুক্ত হয়েছে চিটাগং ভাইকিংসের নাম। যার মালিকানায় থাকা ডিবিএল গ্রুপ এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি নাম প্রত্যাহারের। তবে বিশাল লোকসানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে তারা।
বেশকিছু ফ্র্যাঞ্চাইজির লোকশান হয়েছে। তারপরও বিপিএলের প্রতি ভালোবাসা থেকে অনেকেই তা মেনে নিয়েই থেকে গেছেন। কিন্তু তাদের মাঝে এ ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেক যেমন বলেছেন ব্যাপারটি নিয়ে, ‘বসুন্ধরা গ্রুপ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বহুদিন ধরেই যুক্ত। ক্রিকেট, ফুটবলসহ অন্যান্য ক্রীড়াঙ্গনেও সম্পৃক্ত। এটা আর কিছু নয়, শুধু ক্রিকেটের প্রতি গভীর আবেগ থেকে বিপিএলে আমাদের যাত্রা অব্যাহত আছে। আমরা এমন পরিবার থেকে এসেছি যেখানে আমাদের রক্তেই খেলাধুলা সম্পর্কিত। লোকজন হয়তো মনে করে আমরা অনেক টাকা উপার্জন করছি। এমনকি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাই মনে করে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এখন প্রতি বছরে নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দিতে নিয়ম পাল্টানো হচ্ছে। যেটা খুবই দুঃখজনক।’
বিপিএল সপ্তম আসর মাঠে গড়াবে এ বছরের ডিসেম্বরে। তার আগেই সাকিব আল হাসান ঢাকা ডায়নামাইটস থেকে রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে চুক্তি করেন। যা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইকন ক্রিকেটার হিসেবে তার চুক্তির বিষয়টি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল অস্বীকার করলে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছে রংপুর রাইডার্স।
রংপুরের মতো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে রাজশাহী কিংসও। তাই দলটি সিইও তাহমিদ আজিজুল হক বলেন, ‘আমরা আসলে আশার ভেলাতে চড়েই টুর্নামেন্টে টিকে আছি। হয়তো একদিন গভর্নিং কাউন্সিল বুঝতে পারবে টুর্নামেন্টকে সফল করতে হলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে কিছু বিনিময়ে দিতে হবে। যারা কিনা খেলাটিকে সফল করতে বিনিয়োগ করে চলেছে।’
ফ্র্যাঞ্চাইজিদের লোকশান হলেও বিপিএল থেকে প্রতি আসরে অন্তত ৩৫ কোটি টাকা আয় করে বিসিবি। এর মধ্যে টিভিস্বত্ব থেকে আসে ২৭ কোটি টাকা। গ্রাউন্ডস ও ব্র্যান্ডিং থেকে আসে সাড়ে ছয় কোটি টাকা। টিকিট থেকে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া স্টেডিয়ামে স্টল ভাড়া দিয়েও আয় করে বিসিবি। ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি থেকেও আসে ৯ কোটি টাকার মতো।
সব মিলিয়ে বিপিএল থেকে বছরে ৪৫ কোটি টাকার মতো আয় করে বিসিবি। তবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের খরচ বাদ দেওয়ার পর কম হলেও ৩৫ কোটি টাকা সংস্থাটির ভাণ্ডারে থাকে। কিন্তু তারপরও ফ্র্যাঞ্চাইজিদের দিকে নজর দেয় না দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।

 

 

সর্বশেষ..



/* ]]> */